


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিস্তর টানাপোড়েনের পর পাঁচদিন আগে বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। অবশেষে বুধবার দুপুরে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সোনালি বিবি। মেডিকেল থেকে বেরনোর সময় সোনালি বলেন, ‘ভালো আছি।’ পুলিশ এসকর্ট করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁদের পাইকরের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিলেন সোনালির মা জোৎস্না বিবি ও সোনালির মেয়ে আনিশা। মেডিকেলের অতিরিক্ত সুপার ঈশ্বর চট্টোপাধ্যায় বলেন, সবরকম পরীক্ষা করে সোনালি বিবি ও তাঁর ছেলে সুস্থ আছে এবং ডিসচার্জের উপযুক্ত বলে রিপোর্ট দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। তাই তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ থেকে মালদহ সীমান্ত দিয়ে সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক ছেলেকে ফেরানো হয়েছে। গর্ভবতী থাকায় সোনালিকে প্রথমে মালদহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরেরদিন তাঁকে পাইকরে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ওইদিন বাড়ি ফেরা হয়নি। অসুস্থ থাকায় সন্তান সহ তাঁকে রামপুরহাট মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সোনালির বেশকিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। সেইসঙ্গে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিয়েছিল। তাঁর চিকিৎসায় মেডিকেলে বোর্ড গঠন করা হয়। অবশেষে সুস্থ হওয়ায় এদিন তাঁকে মেডিকেল থেকে ছুটি দেওয়া হল। সূত্রের খবর, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁর সন্তান প্রসবের দিন রয়েছে।
এদিন বাড়ি পৌঁছতেই বহু মানুষ সোনালিকে দেখতে ভিড় জমান। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও সেখানে ছিল। এরইমধ্যে পাইকর ব্লক হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে দেখে যান। বিএমওএইচ অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন, এখন বাড়িতেই থাকবেন সোনালি বিবি। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখে আসবেন। এক সপ্তাহ পর রামপুরহাট মেডিকেলে চেকআপের জন্য ডাকা হয়েছে তাঁকে।
মেয়ে ও নাতি বাড়ি ফেরায় খুশি মা জোৎস্না বিবি ও বাবা ভোদু শেখ। তবে জামাই ও বাকিরা দেশে ফিরলে আরও ভালো লাগত বলে জানান ভোদু সাহেব। স্থানীয় বাসিন্দারা সোনালির কাছে থেকে বাংলাদেশে থাকাকালীন তাঁর দুঃখ-যন্ত্রণার কথা জানতে চান। সোনালি তাঁদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সোনালি বলেন, জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরেছি। অজানা জায়গায় প্রচণ্ড কষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশে খাওয়া, থাকার নানা সমস্যায় পড়েছি। বাড়ি ফিরে সকলের সঙ্গে দেখা হয়ে ভালোই লাগছে। তবে স্বামী ও বাকিরা না ফেরায় চিন্তা হচ্ছে। ওখানকার মাদ্রাসায় মফিজুল শেখের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরই একটু ভরসা পাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সামিরুল ইসলামের জন্য দেশে ফিরতে পেয়েছি। উল্লেখ্য, তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলামের প্রতিনিধি মফিজুল।
মঙ্গলবার মেডিকেলে সোনালির সঙ্গে দেখা করেন সভাধিপতি কাজল শেখ। তিনি সোনালির হাতে দু’লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। কিন্তু সোনালির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। নেই ভোটার বা আধার কার্ড। যদিও সোনালি বলেন, দিল্লিতে যেখানে থাকতাম সেখানে আধার কার্ড পুড়ে গিয়েছিল। তাই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। ভোদু শেখ বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পেটের জ্বালায় দিল্লিতে পড়েছিলাম। এজন্য ভোটার কার্ড ও ব্যাঙ্ক আকাউন্ট করা হয়নি। আর দিল্লি যাব না। এদিন হাতজোড় করে স্বামী ও বাকিদের ফেরানোর অনুরোধ জানান সোনালি। নিজস্ব চিত্র