


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলকাতায় তৈরি হতে চলেছে ডিজিটাল ডোম থিয়েটার। ছোট একটি সভাগৃহে মাথার উপর ফুটে উঠবে সৌরজগত্। তা দৃষ্টির এতটাই কাছে যে মনে হবে চাইলেই হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যাবে স্যাটেলাইট। কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়াম কিংবা সায়েন্স সিটিতে এরকম ডোম থিয়েটার রয়েছে। এবার বালিগঞ্জের বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম (বিআইটিএম) ডিজিটাল ডোম তৈরি করছে দেশীয় প্রযুক্তিতে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, পুজোর পর নভেম্বর মাসে উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে।
এর আগে দেশীয় প্রযুক্তিতে নাগপুরে এমন ডিজিটাল ডোম থিয়েটার তৈরি হয়েছিল। এবার হচ্ছে বিআইটিএমে। সংস্থার কলকাতার অধিকর্তা অর্ণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ডোম থিয়েটারে অনেক প্রজেক্টর থাকে। সেই প্রজেক্টরগুলি একটি অন্যটির উপর গিয়ে পড়ে। এর ফলে ছবি অস্পষ্ট হয়, এঁকে-বেঁকে যায়। সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেই বিষয়গুলি ঠিক করতে হয়। এই কাজ যত ভালোভাবে করা যায়, আমাদের কাছে দৃশ্য ততই স্পষ্ট হয়। এ জন্য গোটা পৃথিবীতে ডোম থিয়েটার তৈরির অনেক খরচ। আমাদের যদিও অনেক কম খরচে করা হচ্ছে।’ কত খরচ? জানা গিয়েছে, বিদেশ থেকে আনা আট মিটারের ডিজিটাল ডোমের ক্ষেত্রে খরচ লাগে প্রায় সাত কোটি টাকা। তবে বিআইটিএমের এই ডোম তৈরি করতে খরচ হবে দেড় কোটি টাকার মতো। ‘আমরা বিআইটিএমে সাত মিটার ডায়ামিটারে করছি। ২০ থেকে ২৫ জন একসঙ্গে দেখতে পারবেন। সায়েন্স সিটিতে রয়েছে ২৩ মিটার ডায়ামিটারের। আমরা চেষ্টা করছি পুজোর আগে কাজ শেষ করে ফেলতে,’ বললেন অর্ণববাবু। বিআইটিএমের ফিজিক্স গ্যালারিতে তৈরি হচ্ছে এই ডোম থিয়েটার। এখানে থাকবে ইন্টার্যাকটিভ সেশনও।
এর পাশাপাশি বিআইটিএমের সামুদ্রিক গ্যালারিতে রাখা হবে একটি নীল তিমির রেপ্লিকা। সেটিও শীঘ্রই উদ্বোধন হবে বলে জানা গিয়েছে। সামুদ্রিক জগতের হারিয়ে যাওয়া প্রাণীগুলি কীভাবে চলাফেরা করত তা স্মার্টফোনে স্ক্যান করলে দেখতে পাওয়া যাবে। আর ছাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে তিমি। এক আধিকারিকের কথায়, ‘বড় আকারের তিমি ১০০ ফুটেরও হয়ে থাকে। আমরা ২৫ ফুটের তিমি তৈরি করছি। সেটা সিলিংয়ে রাখা থাকবে।’