


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজ্যের স্কুলগুলিতে শুরু হয়েছে বিশেষ পরিদর্শন। উচ্চ মাধ্যমিক চলছে। তাই মূলত যে স্কুলগুলিতে পরীক্ষাকেন্দ্র নেই, সেগুলিতেই যাচ্ছেন পরিদর্শকরা। তবে, পরিদর্শনে খুব একটা আশাব্যাঞ্জক ছবি উঠে আসছে না বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা। সার্বিকভাবে হাজিরা বেশ কম। এছাড়াও, লার্নিং আউটকামেও বিস্তর খামতি পাচ্ছেন তাঁরা। যদিও, সদ্য পরিদর্শন শুরু হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন হওয়ার পরে সামগ্রিক ছবি উঠে আসবে তাঁদের হাতে।
একজন পরিদর্শক জানান, প্রথম দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ৭০টি স্কুল পরিদর্শন হয়েছে। তবে, শনিবার সেই সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। তবে, শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে, খুব ভালো ছবি উঠে আসছে না। গতবছরও বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর এরকম বিশেষ পরিদর্শন হয়েছিল। সেই পরিদর্শন থেকে ৫০টি বিষয়ের উপরে বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্ট খুব শীঘ্র জমা পড়তে চলেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের কাছে। পরিদর্শকদের আশা, তার উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিলে, পরিস্থিতির খানিক উন্নতি হতে পারে। এবছরও সরকারি পোর্টালে তথ্য জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও একটি গুগল শিটে সেসব তথ্য রাখছেন পর্যালোচনার জন্য।
পুজোর হাওয়া চলে আসায় স্কুলে হাজিরা এমনিতেই কম। যেখানে পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, সেখানে এমনিতেই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে। তবে, প্রধান শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধু এখন বলেন নয়, স্কুলভেদে পড়ুয়াদের হাজিরার ছবিতে বিরাট তারতম্য। কলকাতার হেয়ার স্কুলে যেমন উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় সত্ত্বেও সেখানে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের হাজিরা মোটামুটি ঠিকই আছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের এক প্রধান শিক্ষক বলেন, পড়ুয়াদের হাজিরা ঠিক রাখতে, তারা যাতে পড়াশোনায় মন দেয়, তা দেখার জন্য অভিভাবকদের ডাকা হয়েছিল। সেই পেরেন্টস-টিচার্স মিটিংয়ে অভিভাবকদের জন্য মাংসভাতেরও ব্যবস্থা করা হয়। তা সত্ত্বেও জনা চার-পাঁচেক অভিভাবক উপস্থিত হন। ফলে, অভিভাবকদের তরফেও একটা বিস্তর অনীহা এই প্রবল প্রতিযোগিতার যুগেও রয়ে গিয়েছে বলে মত প্রধান শিক্ষকদের।