


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ব ভারতের বৃহত্তম ইমার্জেন্সি বিভাগ পেতে চলেছে পিজি হাসপাতাল। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডও হতে চলেছে। এমনকি, ট্রমা সেন্টারের ধাঁচে এখানে হতে চলেছে রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোনও। ইমার্জেন্সি বিভাগ ঢেলে সাজা নিয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ছিল। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পদস্থ সূত্রের খবর, ইমার্জেন্সি টেবিল (যেখানে প্রাথমিকভাবে রোগীকে রেখে চিকিৎসা শুরু হয়) সমেত ১১০ বেড পেতে চলেছে পিজির ইমার্জেন্সি। বর্তমানে ৫টি ইমার্জেন্সি টেবিল সমেত এখানকার জরুরি বিভাগে বেড সংখ্যা হল ৪৫।
পিজি সূত্রের খবর, ২০২৬ সাল জুড়ে ধাপে ধাপে সংস্কার করে ঢেলে সাজা হবে এই বিভাগটিকে। হাসপাতালের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, জাতীয়-আন্তজার্তিক পর্যায়ের ইমার্জেন্সি কেয়ার দিতে গেলে প্রয়োজন সেইরকম আধুনিক ও বিস্তৃত ইমার্জেন্সি বিভাগ গড়ে তোলা। তাছাড়া এখন মেডিকেল কলেজগুলির পঠনপাঠনের মান্যতার অন্যতম প্রধান শর্ত, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোযুক্ত ইমার্জেন্সি। সেই কারণে দিল্লি এইমস এবং সফদরজং—দেশের এই দুটি শীর্ষস্থানীয় সরকারি মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সির পরিকাঠামো দেখতে গিয়েছিলেন পিজির চিকিৎসকরা। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই প্রস্তাবিত ইমার্জেন্সির পরিকল্পনা করেছে পিজি। যেকোনও মেডিকেল কলেজের ‘আয়না’ ধরা হয় ইমার্জেন্সি বিভাগকে। আশঙ্কাজনক রোগীকে প্রথম আনা হয় এখানেই। তাই ইমার্জেন্সির পরিষেবার উপর যেমন তাঁর মরণ-বাঁচন নির্ভর করে, তেমনই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গুণগত মান ও পরিষেবা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে দেয় ইমার্জেন্সি।
পিজির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বর্তমানে একতলা বিস্তৃত ইমার্জেন্সি বিভাগকে বাড়িয়ে তিনতলা করা হবে। মূল ইমার্জেন্সির আশপাশের ফাঁকা জায়গাটি পরিষ্কার করে সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ড (ইওডব্লু)। ইমার্জেন্সি টেবিল বাড়বে। রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তাকে রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। প্রতিটি জোনের জন্য নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হবে। বর্তমানে ৪৫ শয্যার ইওডব্লুর জন্য পিজিতে রয়েছে মাত্র একটি ভেন্টিলেটর। সেই সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে। আনা হবে আরও আধুনিক কার্ডিয়াক মনিটর, ডিফিব্রিলেটর প্রভৃতি। পিজির এক কর্তা বলেন, সারা দেশে রোজ সবচেয়ে বেশি ইমার্জেন্সি রোগী আসে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে—কমবেশি প্রায় তিন হাজার! পিজি সেদিক থেকে দ্বিতীয় হলেও ইমার্জেন্সি রোগীর সংখ্যা কম—কমবেশি এক হাজার। তাই সফদরজংয়ের শিক্ষা নয়া ইমার্জেন্সি বিভাগ তৈরি করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দরকারি বলে আমরা মনে করছি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের বৃহৎ কর্পোরেট হাসপাতালগুলির মধ্যে রুবি মোড় লাগোয়া একটি কর্পোরেট হাসপাতাল এবং কাদাপাড়া বাইপাস লাগোয়া একটি বৃহৎ কর্পোরেটের ইমার্জেন্সি বেশ বড়ো। প্রথমটিতে ২৫টি এবং দ্বিতীয়টিতে ২৬টি ইমার্জেন্সি বেড রয়েছে। পিজির ইমার্জেন্সি বিভাগ ঢেলে সাজলে ধারকাছেও থাকবে না কোনও কর্পোরেট হাসপাতাল।