


নয়াদিল্লি: এয়ারটেল ও জিওর পর স্টারলিঙ্ক। এবার ভারতে স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ব্যবসার লাইসেন্স পেয়ে গেল এলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক। এই ক্ষেত্রে পরিষেবা প্রদানের জন্য এর আগে মাত্র দু’টি সংস্থা লাইসেন্স পেয়েছিল। এয়ারটেলের ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এবার তৃতীয় সংস্থা হিসেবে মাস্কের স্টারলিঙ্ককে ছাড়পত্র দিল টেলিকম মন্ত্রক। ২০২২ সাল থেকে এই লাইসেন্স পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল মাস্কের সংস্থা। স্টারলিঙ্ক ছাড়পত্র পাওয়ায় এবার আমাজনের কুইপারও লাইসেন্স পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
সরকারি সূত্রে খবর, স্টারলিঙ্কের তরফে আবেদনের ভিত্তিতে তাদের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল স্পেকট্রামও বরাদ্দ হয়ে যাবে। জানা গিয়েছে, ভারতে ব্যবসার জন্য তারা নন-রিফান্ডেবল ফি হিসেবে মোট ১.৬০ কোটি টাকা দেবে মাস্কের সংস্থা। এর মধ্যে পারফরম্যান্স ও আর্থিক ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি হিসেবে ১.২০ কোটি টাকা দিতে হবে। দায়বদ্ধতা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনি বিধিগুলি মেনে কাজ করতে হবে তাদের।
লাইসেন্স মঞ্জুরের আগে মে মাসের গোড়ার দিকেই স্টারলিঙ্ককে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) ইস্যু করা হয়। এই আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সংস্থাকে ভারতে পরিষেবা দেওয়ার জন্য কী কী শর্ত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাইডলাইন মেনে চলতে হবে, এলওআইয়ে তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
সূত্রের খবর, এলওআই-তে আর্থিক শর্তের পাশাপাশি একাধিক বিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে মাস্কের সংস্থার জন্য। এলওআই-তে বলা হয়েছে, স্টারলিঙ্ক তাদের পরিষেবা প্রদানের কাজে যদি এমন কোনও সহযোগী সংস্থার সাহায্য নেয় যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল, তাহলে ওই সংস্থার বকেয়া অর্থও মাস্কের সংস্থাকেই শোধ করতে হবে। সূত্রের খবর, টেলিকমিউনিকেশনস দপ্তরের ইস্যু করা এলওআই অনুযায়ী, স্টারলিঙ্কের জন্য ধার্য করা নন-রিফান্ডেবল এন্ট্রি ফি-এর অধীনে সংস্থার জন্য জিএমপিসিএস, ভিস্যাট, আইএসপি-এ পরিষেবার ইউনিফায়েড লাইসেন্স থাকছে। এর ফলে মাস্কের সংস্থা দেশজুড়ে তাদের পরিষেবা চালু করার সুযোগ পাবে। এছাড়া স্টারলিঙ্ক যাতে পরিষেবা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতাগুলি মেনে চলে সেজন্যই পারফরম্যান্স ও আর্থিক ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া স্টারলিঙ্কের দেওয়া কোনও তথ্য মিথ্যা বা ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হলে সরকার যেকোনও মূহূর্তে লাইসেন্স বাতিল করতে পারে।