


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর ও নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসআইআর ফর্ম আটকে রাখায়, উচ্ছেদ আশঙ্কায় শনিবার ছ’বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন ধনেখালির এক আদিবাসী তরুণী। টানা দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে পরাস্ত হলেন তিনি। সোমবার দুপুরে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আশা সোরেন (২৭) নামে ওই গৃহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনও চিকিৎসাধীন তাঁর শিশু কন্যা। ২০০২’এর ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা নয় এই তরুণীর। তাঁর সমস্যা ছিল, প্রয়োজনীয় নথি না থাকা। এরই পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির তরফে আটকে রাখা হয়েছিল ইনিউমারেশন ফর্ম। শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে গত ৫ বছর ধরে মেয়েকে নিয়ে ধনেখালির পূর্ববনপুরে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন আশা। ভিটেমাটি উচ্ছেদের আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত মরিয়া আশা ইনিউমারেশন ফর্ম জোগাড়ে শনিবার গিয়েছিলেন হরিপালের জেজুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বাপের বাড়ি ফিরে এসে জানান, তিনি ও তাঁর শিশু কন্যা কীটনাশক খেয়েছেন। প্রথমে ধনেখালি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয় আশা ও তাঁর মেয়েকে। ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে বিজেপি। এই ঘটনার দায়ভার বিজেপিকে নিতে হবে। এই মৃত্যুর ঘটনায় আশার শ্বশুরবাড়ির ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার আশার বাপের বাড়ির সবাই ইনিউমারেশন ফর্ম পেয়েছেন। কিন্তু ধনেখালির ভোটার না হওয়ায় তাঁর ফর্ম আসেনি। চিন্তা বাড়ছিল আশার। বিবাদের জেরে শ্বশুরবাড়ি সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে কোনও সম্পর্কও নেই। যাবতীয় নথিপত্র রয়েছে সেখানেই। এসআইআরে নাম তোলার মরিয়া চেষ্টায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও প্রত্যাখ্যাত হন ওই আদিবাসী তরুণী। তারপরেই আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা এবং দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে পরাজিত হওয়া। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অপরদিকে, নদীয়ার তাহেরপুরে এসআইআর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর এসেছে। তাহেরপুরের কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের কৃষ্ণচক মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা শ্যামল সাহা (৭২) নামে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে সোমবার সকালে। পরিবারের দাবি, ২০০২’এর ভোটার তালিকায় এই বৃদ্ধের নাম নেই। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল শ্যামলবাবুকে। ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেলে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হবে, পাঠিয়ে দেওয়া হবে বাংলাদেশে—এই উৎকন্ঠা গ্রাস করছিল তাঁকে। অবসাদ থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি থেকেই শ্যামলবাবুর মৃত্যু, এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর বউমা ডলি সাহা।