


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্তরে স্কুল শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং থেকে ইন্টারভিউয়ের সূচি পরিবর্তন হচ্ছে। বাঁকুড়ার প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ হওয়ার কথা ছিল ২০ থেকে ২৪ এপ্রিল। তবে, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন থাকায় দিনটি পরিবর্তন করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে। একইভাবে ৪ থেকে ৮ মে এই প্রক্রিয়া চলার কথা ছিল আলিপুরদুয়ার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে। ৪ মে ফল ঘোষণার কথা। তাই সেই দিনটিও পরিবর্তন হবে বলে জানা যাচ্ছে। পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, ‘সম্ভাব্য দিন হিসেবেই সেগুলি প্রকাশ করা হয়েছিল। ভোট ঘোষণা হওয়ায় সেগুলি পরিবর্তন করা হবে।’ প্রসঙ্গত, ইন্টারভিউয়ে দ্রুততা আনার জন্য পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে শুভ্রকান্তি মণ্ডলকে। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের পি আর ঠাকুর কলেজে রসায়নের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। পার্থ কর্মকার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি হয়ে যাওয়ায় পদটি ফাঁকা ছিল।
একই পরিস্থিতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে একাদশ-দ্বাদশ এবং নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও। সূচি বদল করতে হবে সেখানেও। একাদশ-দ্বাদশের প্রার্থীদের ২০ থেকে ২৫ এপ্রিল কাউন্সেলিং ছিল। তবে, ২৩ এপ্রিল নির্বাচন থাকায় সেই দিনগুলি পরিবর্তন হবে। অন্যদিকে, নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষকদের ইন্টারভিউ এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের দিন ঘোষিত ছিল ২০ থেকে ২৫ এপ্রিল এবং ৪ থেকে ৭ মে। সেই দফাগুলিতে নির্বাচন এবং গণনা ও ফল প্রকাশের জন্য ইন্টারভিউয়ের সূচি পালটাবে।
ভোট পরিস্থিতিতে কাউন্সেলিংয়ে স্কুল পেয়েও চূড়ান্ত নিয়োগপত্রের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিকেল ফিটনেস টেস্ট করতে গিয়ে প্রার্থীদের সমস্যা হচ্ছে বলেই দাবি বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক সংগঠন এপিজিটিডব্লুএ’র সচিব চন্দন গরাই বলেন, যাঁরা এর আগেই কোনো-না-কোনো স্কুলে কর্মরত ছিলেন, তাঁদের নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিকেল টেস্ট থেকে রেহাই দেওয়া হোক। না-হলে এই পরিস্থিতিতে সেগুলি করাতে গিয়ে বেশ ঝক্কি পোয়াতে হচ্ছে প্রার্থীদের। ভোটের আগেই জটিলতা দূর করে সকলের চাকরিতে যোগদান নিশ্চিত করুক রাজ্য।’ পাশাপাশি, বাড়তি শূন্যপদ যোগ করে আরো বেশি প্রার্থীকে কাউন্সেলিংয়ে ডেকে চাকরি দেওয়ার দাবিও তুলছে সংগঠনগুলি।