


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাক প্রাথমিকের পড়ুয়াদের পাঠদান একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। এই বয়সের পড়ুয়াদের কোনো বিষয় হৃদয়ঙ্গম করাতে গেলে শিক্ষকদেরও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হয়। সেই কারণে রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের উদ্যোগে ইউনিসেফ এই স্তরের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ওয়েবিনারের মাধ্যমেই প্রাথমিক স্কুলের একজন হেড টিচার এবং একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার নিয়ে এই ধাপে পাঁচ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দিতে চলেছে তারা। ৩১ জানুয়ারি ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমারেসির (এফএলএন) উপরে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে আরও পাঁচ হাজার শিক্ষক এর আওতায় আসবেন।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের এক আধিকারিক বলেন, ইউনিসেফ এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। তা দেওয়া হয়। এই ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ এবং বোধগম্যতা, সংখ্যা বিষয়ক জ্ঞান, স্নায়বিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ বিজ্ঞানভিত্তিক পথে হাঁটতে হয় শিক্ষকদের। জয়ফুল লার্নিং বা আনন্দদায়ক শিক্ষণ ব্যবস্থার দিকগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপে। সেসব নিয়েই প্রশিক্ষণ হবে। শিক্ষকরা বিষয়গুলি জানেন না এমন নয়। তবে, নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের ফলে তাঁরা সেগুলি নিয়ে চর্চার মধ্যে থাকেন। এতে সবচেয়ে উপকৃত হয় খুদে পড়ুয়ারাই। শিক্ষকের পড়ানো কোনো পড়ুয়া বুঝতে পারছে কি না, তা এই ধাপেই ধরে ফেলা সম্ভব। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার উন্নতি হয়। ফলে পরবর্তীকালে মূল্যায়নে অসফল হওয়া বা চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ড্রপ আউট হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
মন্টেসরি, রেজ্জিও এমিলিয়া, ওয়ালডর্ফ প্রমুখ শিক্ষাবিদের বিশ্বজনীন স্বীকৃত বিভিন্ন মডেল প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত থাকছে। কত সহজতম পন্থায় পড়ুয়াদের মাথায় শিক্ষণীয় বিষয়গুলি ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, এগুলি তারই বিজ্ঞানসম্মত পন্থা। একই সঙ্গে বুধবার স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (এসসিইআরটি) উদ্যোগে রাজ্যব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পও শুরু করা হয়েছে। অনলাইন প্রকল্পটিকে বলা হচ্ছে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম অন আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশন। স্কুলশিক্ষা কমিশনার অরূপ সেনগুপ্ত, এসসিইআরটি অধিকর্তা ছন্দা রায়, প্রযুক্তি শিক্ষা অধিকর্তা (ডিটিই) অনিন্দিতা গঙ্গ্যোপাধ্যায় প্রমুখের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষণ পর্বটির সূচনা হয়েছে। এক আধিকারিক জানান, ইকো ইন্ডিয়া সংস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই প্রশিক্ষণ চলবে। গতবছর বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে এই ব্যাপারে মউ স্বাক্ষর করেছিল স্কুলশিক্ষা দপ্তর।