


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালে সিবিআই ও অভিযুক্তদের আইনজীবীদের তীব্র চিৎকার চেঁচামেচিতে এজলাস কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একসময় রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে আদালত কক্ষ ছাড়েন ওই কেন্দ্রীয় এজেন্সির কৌঁসুলি। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। শেষপর্যন্ত কোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের এই এসএসসির নিয়োগ মামলায় সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে ওই শুনানি। এই ঘটনায় সিবিআইয়ের কৌঁসুলিরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে আদালত সূত্রের খবর। ঘটনার কথা জানতে পেরে আদালতে আসে সিবিআইয়ের পদাধিকারীদের একাংশ।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন এই মামলায় দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্য দিতে আসেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এক টেকনিক্যাল অফিসার। এদিন ছিল এই মামলায় ওই সাক্ষীকে জেরা করার দিন। সেইমতো শুনানি শুরু হলে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এই মামলার বিষয়ে জেরা করতে শুরু করেন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। অভিযোগ, মামলার প্রশ্নকে ঘিরে একসময় শুরু হয় এজলাস কক্ষে দু-পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি। অভিযুক্তদের আইনজীবীদের অভিযোগ, সাক্ষীকে তাঁরা জেরা করার সময় সিবিআইয়ের আইনজীবী নানা প্রশ্ন তুলে অহেতুক চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। তাতে সমস্যা হচ্ছিল। যদিও সিবিআই ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে।
সিবিআইয়ের বক্তব্য, অভিযুক্তদের কৌঁসুলিদের একাংশ তাঁদেরকেই নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করছিল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, অল্প সময়ের জন্য শুনানি থমকেও যায়! ওই অবস্থায় সিবিআইয়ের কৌঁসুলি কোর্ট থেকে বেরিয়ে যান। এরপরই বিচারকের নির্দেশে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্যদান পর্ব। এদিন এই মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ জেল হেপাজতে থাকা অভিযুক্তরা ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে, জামিনে থাকা অভিযুক্তরা কোর্টে হাজিরা দেন সরাসরি।