


নিজস্ব প্রিতিনিধি, কলকাতা: মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষ্যে কাল, মঙ্গলবার সরকারি ছুটি। প্রতিটি ত্রৈমাসিকের শেষ দিনে স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সুদের হার পরবর্তী তিন মাসের জন্য বলবৎ থাকে। তাহলে কি আজ, সোমবারই সেই সুদ ঘোষিত হবে? এমন সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন হল, সুদ কি বাড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে যে আর্থিক পরিস্থিতি চলছে, তাতে সুদ হয়তো কমবে না। তবে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে নাগরিকদের খুশি করতে সুদের হার বৃদ্ধির পথে হাঁটতেও পারে কেন্দ্র।
পিপিএফ, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, বয়স্ক নাগরিকদের সঞ্চয় প্রকল্প, রেকারিং ডিপোজিট বা মান্থলি ইনকাম স্কিমের মতো প্রকল্পগুলিতে দীর্ঘদিন সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে কেন্দ্র। এদিকে, রিজার্ভ ব্যাংক পরপর কয়েক দফায় কমিয়েছে রেপো রেট। যেহেতু ব্যাংকগুলির আমানত ও সঞ্চয় প্রকল্পগুলি রেপো রেটের উপর অনেকটা নির্ভরশীল, তাই সেখানেও প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকের কোনো কোনো সঞ্চয় প্রকল্পে সুদ কমেছে। এই পরিস্থিতিতেও স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদ সমানোর ঝুঁকি নেয়নি অর্থমন্ত্রক। তাদের বক্তব্য, সরকারি লগ্নিপত্রের সুদের হারের উপর ভিত্তি করে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ নির্ধারণ হয়। তাই রেপো রেটের প্রভাব এতে পড়েনি। সেদিক থেকে বিচার করলে এবার সুদ কমার সম্ভাবনা কম, বলছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে কি সুদ অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি তা বাড়তে পারে? বিশেষজ্ঞদের একাংশের কথায়, এমনিতেই রান্নার গ্যাস নিয়ে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। একদিকে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বিক্রি সুষ্ঠুভাবে না হওয়ায় একাধিক পণ্য, বিশেষত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে। তার উপর রান্নার গ্যাসের ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধিতে প্রবল চটে আছে আম জনতা। সেই ক্ষতে মলম দিতেই স্বল্প সঞ্চয়ে সুদ বৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে নরেন্দ্র মোদি সরকার, মনে করছেন অনেকেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সবচেয়ে বেশি টাকা যে রাজ্যগুলিতে জমা পড়ে, তার মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরল। এই রাজ্যগুলিতে এবার ভোটের দামামা বেজে যাওয়ায় সুদ বৃদ্ধির আশা জোরালো হচ্ছে।
এদিকে, কাল, ৩১ মার্চ বহু গ্রাহকের সঞ্চয় প্রকল্পের মেয়াদ শেষের তারিখ। ওই দিন সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই আজ, সোমবার সেই প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সঞ্চয় প্রকল্পটি যে মেয়াদ শেষের আগেই তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে চিহ্নিত হবে। বিষয়টি গ্রাহককে গুরুত্ব সহকারে জানানোর নির্দেশিকা জারি করেছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। তারা জানিয়েছে, এক্ষেত্রে গ্রাহক যে কম সুদ পাবেন, তা তাঁদের জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে এপ্রিলে যাতে সেই সঞ্চয় প্রকল্প ভাঙানো হয়, তার পরামর্শ দেবেন ডাককর্মীরা। ফলে গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।