


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এ যেন সাগর সাঁতরে সেন্সাস! ৪৬ লক্ষ ধরনের জাতি, উপজাতি, সম্প্রদায়, গোত্র? ‘অন্যান্য’ (আদার্স) জাতির মধ্যে কে কোনটি, নিখুঁতভাবে নথিভূক্ত করাই কেন্দ্রের কাছে চ্যালেঞ্জ। তার উপর আবার কেন্দ্র এবং রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)র তালিকা আলাদা। সঙ্গে রয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেসের লাগাতার চাপ। সেই হিসেবে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও জনগণনায় অন্তর্ভূক্ত হবে অন্যান্য জাতির বিস্তারিত। এতদিন শুধু হয়েছে তফসিলি জাতি (এসসি) এবং তফসিলি উপজাতি (এসটি)। এবার হবে আদার্সও।
যদিও অন্যন্য শ্রেণির সেন্সাস এই প্রথম নয়। স্বাধীনতার আগে ১৯৩১ সালে হয়েছিল। তখন ৪ হাজার ১৪৭ ধরনের জাতির সংখ্যা মিলেছিল। নব্বইয়ের দশকে বিন্ধেশ্বরী প্রসাদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে ‘মণ্ডল কমিশনে’র সুপারিশে বলা হয়েছিল ভারতে পিছিয়ে পড়া জাতি-উপজাতির সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩। ২০১১ সালে মনমোহন সিং সরকারের উদ্যোগে সাধারণ সেন্সাসের পাশাপাশি হয়েছিল সোসিও ইকোনমিক কাস্ট সেন্সাস (এসইসিসি)। তবে সেই রিপোর্টের ‘কাস্ট’ অংশটি প্রকাশ হয়নি। কারণ, ৪৬ লক্ষ পিছিয়ে পড়া জাতি, উপজাতি, গোত্র, সম্প্রদায়ের সমুদ্রে ঠিকভুল বের করাই হয়েছিল মুশকিল। ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ সালে তৎকালীন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগাড়িয়ার সভাপতিত্বে বিশ্লেষণ কমিটি গড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সেই জাতি রিপোর্ট সামনে আসেনি।
তাই সেন্সাস আধিকারিকদের কাছে এবারের জনগণনা বিরাট চ্যালেঞ্জ। স্মার্টফোনের মোবাইল অ্যাপে এবার গণনা হবে ডিজিটাল। কিন্তু ‘অন্যান্য’ জাতির নাম, সংখ্যা নিয়ে দিল্লির ‘জনগণনা ভবনে’র কর্তা ব্যক্তিদের ওপর চাপ বেড়েছে। ৪৬ লক্ষ জাতি, উপজাতির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হয়তো একই নামের ভিন্ন অথবা ভুল বানান লেখা অথবা ত্রুটিপূর্ণ নভিভূক্ত করার কারণেই সংখ্যাটি অবিশ্বাস্য। তবুও এসসিসিসি’র তথ্য দেখে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র আর রাজ্যের ওবিসি তালিকা মিশিয়েই আসন্ন সেন্সাসের প্রশ্নাবলি তৈরির পরিকল্পনা চলছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথন বৈঠক করেছেন সেন্সাস কমিশনার তথা রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের সঙ্গে। নিখুঁতভাবে জনগণনাই লক্ষ্য কেন্দ্রের।
‘ন্যাশনাল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় তালিকায় ২,৫১২ ধরনের ওবিসি রয়েছে। যে তালিকায় পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি’র ধরন ৯৯। কিন্তু গত ৩ জুন প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের হিসেব, রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি রয়েছে ১৪০ রকম। ৪৯ মোর-ব্যাকওয়ার্ড। ৯১ ব্যাকওয়ার্ড। তাই কেন্দ্র-রাজ্যের ওবিসি তালিকা মিশিয়ে অভিন্ন একটি তালিকাই তৈরি করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের মুখপাত্র শচীন পাইলট এদিনও প্রশ্ন তুলেছেন, সেন্সাসের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে কেন উল্লেখ নেই জাতি অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়টি? এই সরকারের কি তবে অন্য কোনও মতলব আছে? জনগণনায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ, সেখানে কেন বাজেট বরাদ্দ মাত্র ৫৭৪ কোটি টাকা?