


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এক নাবালকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাকে ঘিরে রুদ্ধশ্বাস নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল বাঁশবেড়িয়ায়। সেই নাবালককে বাঁচাতে পুলিস, দমকল থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছুটে আসতে হল। শেষপর্যন্ত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির অবসান ঘটে মাত্র ২০০ টাকার পেট্রলের প্রলোভনে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁশবেড়িয়ার মিল ফাঁড়ির তিন নম্বর গুমটি এলাকায়। বিকেলে সেখানকার বাসিন্দা এক হিন্দিভাষী নাবালক আচমকা মা ও বোনকে ঘর থেকে বের করে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। দেড় লক্ষ টাকা তাকে দিতে হবে, এই দাবি করে সে নিজেকে ঘরবন্দি করে। তারপর কখনও বুকে ছুরি বসিয়ে দেবে, কখনও গ্যাস জ্বালিয়ে গোটা ঘর উড়িয়ে দেবে, কখনও গলায় দড়ি দেওয়ার কথা বলতে শুরু করে। স্থানীয়রা পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পুলিসকে খবর দেয়। পুলিসের তরফে ডাকা হয় দমকলকে। স্থানীয় কাউন্সিলারও চলে আসেন। অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে দমকল কর্মীরা ওই বাড়িকে ঘিরে জলবর্ষণ শুরু করে। তাতে আরও রেগে গিয়ে ওই নাবালক নানা জিনিসপত্র ছুড়তে শুরু করে। শেষপর্যন্ত পুলিসের তরফে তাকে বাইকে পেট্রল ভরার জন্য ২০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাতে কিছুটা শান্ত হয় সে। সেই অবসরে বাড়ির ঘুলঘুলি দিয়ে পুলিস ঢুকে পড়ে। মিল ফাঁড়ির ইনচার্জ সুজিত রায় ওই নাবালকে জাপটে ধরে বাইরে নিয়ে আসেন। প্রায় চার ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকের যবনিকা পড়ে। সুজিতবাবু বলেন, ওই নাবালকের চিকিৎসা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারকে পরামর্শ ও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলার মনিরা খাতুন বলেন, ভয়ঙ্কর ঘটনা। কোনওরকমে ওই নাবালককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সে মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। তার জেরেই এই কাণ্ড!