


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: প্রশান্ত কিশোর—রাজনীতির জগতের কারবারিদের কাছে তিনি পরিচিত ‘পিকে’ নামেই। রাজনৈতিক পরামর্শদাতা তথা ভোটকুশলী হিসেবে তাঁর খ্যাতি দেশজোড়া। দেশের প্রথম সারির সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই একটি সময়ে তাঁর ওঠাবসা ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু রাজনৈতিক ‘পাঠ’ দেওয়ার কারবার ছেড়ে এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছে তাঁর দল ‘জন সুরজ’। যদিও এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু কেন প্রার্থী হলেন না তিনি? এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন তুমুল চর্চা চলছে, ঠিক সেইসময়ই সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত কিশোর এখনও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার!
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটেনি বলেই কি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হলেন না পিকে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটারসম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তাতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি বিধানসভা আসনের ভোটার তালিকা। তা থেকে দেখা গিয়েছে, প্রশান্ত কিশোর দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার এখনও। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ যে ভোটার তালিকাটি নথিভুক্ত রয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের বাবার নাম শ্রীকান্ত পান্ডে। প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সেন্ট হেলেন স্কুলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রশান্ত কিশোর আসলে বিহারের বাসিন্দা। কিন্তু এখনও তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার রয়েছেন। অন্তত নির্বাচন কমিশনের তথ্য তাই বলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যখন প্রশান্ত কিশোরের প্রাক্তন সংস্থা আইপ্যাকের সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন থেকেই কলকাতায় অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন পিকে। ইতিমধ্যে আইপ্যাকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। পিকে জন সুরজ নামক নতুন দল গড়ে ভোটে লড়ছেন। তবে আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক এখনও ভালোই। তবে আইপ্যাকের প্রাক্তন এক কর্মী আবু আফান ফারুক জন সুরজ পার্টির তরফে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কোচাধ্যাম কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন।
রাজনৈতিক মহলের লোকজন বলে থাকেন, বিধানসভা নির্বাচনে যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে সেই রাজ্যের ভোটার হতে হয়। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সালে বিজেপি অশোক লাহিড়ীর নাম প্রার্থী তালিকায় আলিপুরদুয়ার থেকে প্রকাশ করে। তখন কিন্তু তিনি দিল্লির ভোটার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অশোক লাহিড়ীর নাম ভোটার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তোলা হয় এবং তিনি বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। ফলে প্রশান্ত কিশোর যখন তাঁর বিহারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কাজকর্ম পরিচালনা করছেন, তখন সেখানে বিহারের ভোটার হবেন এটাই অনুমেয়। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, পিকের পার্টি বিহারের আঞ্চলিক দল—কোনও সর্বভারতীয় দল নয়। ফলে তিনি বিহারের ভোটার হবেন, এটাই সহজ অঙ্ক। এখন কেন তিনি প্রার্থী হলেন না বা কোথাকার ভোটার থাকলেন, এটার জন্য অনেকেরই নজর থাকবে।
ফলে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা—পিকে বিহারের ভোটার হবেন কবে? বাংলার ভোটার তালিকা থেকে কবে তাঁর নাম কাটবেন? তাঁর নতুন কোনও চিন্তাভাবনা আছে কি না—আগামী দিনে কী করবেন তিনি? সবটাই এখন তুমুল আলোচনার মধ্যে।