


অভিষেক পাল, বহরমপুর: গত এক বছরে মুর্শিদাবাদ জেলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৮৭কোটি ৭৮লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অন্যতম বড় এই জেলায় প্রায় ৮০লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে জেলার প্রায় ৭৫লক্ষ মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় এসেছেন বলেই জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত জেলার প্রায় ২১লক্ষ পরিবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে উপকার পেয়েছে। দূরারোগ্য ব্যাধি সারাতে বা জটিল অস্ত্রোপচার করতে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে পারছেন অনেকে। পরিষেবার খরচ জুগিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এই জেলায় সরকার এখনও পর্যন্ত মোট ৯৭৫ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, চলতি বছরই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৮৭কোটি ৭৮লক্ষ টাকার পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প চালুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৯৭৫কোটি টাকার স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছে জেলাবাসী।
রাজ্যের মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চালু করা হয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। রাজ্যবাসী এই কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের পাশাপশি এই কার্ড থাকলে বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পটি চালু করেন। এই কার্ড চালু হওয়ার পর থেকে রোগী ও রোগীর পরিজনদের ব্যাপক সুবিধা হয়েছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সম্প্রতি বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, বর্তমানে ২৯১৪টি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা মেলে। ২০২৫সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮কোটি ৭২লক্ষ ৫৭ হাজার ৬০৭জন এই প্রকল্পে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমশ বেড়েছে। একথা জানিয়ে মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ২২৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ওই পরিমাণ বেড়ে হয় ২৬৩০ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় হয়েছে ২৬৯৪ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা।
যদিও স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। সোমবার মুর্শিদাবাদের জেলা কার্যালয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে জোচ্চুরি চলছে। জেলার জনসংখ্যা ৮০-৯০লক্ষের কাছাকাছি। তাই যে পরিমাণ মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন, তা যথেষ্ট নয়। আরও সাহায্য পাওয়া উচিত ছিল বলে আমার মনে হয়। বেসরকারি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে। নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথীতে চিকিৎসা করাতে গেলেও অতিরিক্ত টাকা চাইছে। রোগী ও রোগীর পরিজনরা অসহায় হয়ে সেই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, আমাদের সরকার মা মাটি মানুষের সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই প্রকল্প চালু করেছিলেন। তার সুবিধা এই জেলার বাসিন্দারা পাচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, জেলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। আগামী দিনেও আরও বহু মানুষ পরিষেবা পাবেন।