


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর মরশুম কেটে গেলেই থার্মোকল ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিমার সাজসজ্জায় থার্মোকল নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, সেই জট কাটাতেই তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চান। যাতে এই সমস্যার পাকাপাকি নিরসন হয়।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল শুক্রবার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিমার সাজে থার্মোকলের ব্যবহার চলে আসছে। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। তাই একে বর্জনের আগে সরকারি তরফে যাতে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা হয়, সে বিষয়ে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সুচিন্তিত মতামত আশা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে যে মতামত ব্যক্ত করা হবে, আমরা তা মেনে চলার চেষ্টা করব।’
মৃৎশিল্পীদের একাংশের বক্তব্য, দুর্গাপুজো মিটে গেলেও এখন বাকি রয়েছে লক্ষ্মী, কালী, জগদ্ধাত্রী পুজো। ফলে এই সময়টা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ভরা মরশুম কেটে গেলে আমরা এ নিয়ে আমাদের দাবি‑দাওয়া সহ থার্মোকলের বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি। সাজশিল্পী রঞ্জিত সরকার বলেন, এই সমস্যা যত তাড়াতাড়ি মেটে ততই মঙ্গল। কারণ পেটের টানে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকজন যাতে সমস্যায় না পড়েন, সেটা দেখা আমাদের সকলের কর্তব্য। কারণ শিল্পীরা থার্মোকল নিয়ে এখন লুকিয়ে চুরিয়ে কাজ করেন, এটা কখনই কাম্য নয়। এটা আমাদের কাছে অপমানের শামিল।
পরিবেশ দূষণ রোধে এবার পুজোর আগে কুমোরটুলিজুড়ে থার্মোকল নিয়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। তা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। শিল্পীদের অভিযোগ, পুলিশ সাদা পোশাকে এসে থার্মোকল শিল্পীদের কাজের ছবি তুলে নিয়ে যায়। তাতেই তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মৃৎশিল্পী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্যামপুকুর থানায় গিয়ে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় বসলে পুলিশি অভিযান বন্ধ হয়। স্বস্তি পান মৃৎশিল্পীরা।
এদিকে, এই আবহের মধ্যেই অন্যান্য বছরের মতো এবারও কুমোরটুলির রবীন্দ্র সরণি, বনমালি সরকার স্ট্রিট, কুমোরটুলি স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন শিল্পীর ঘরে রমরমিয়ে বিক্রি হয়েছে থার্মোকলের উপর সাঁটানো দুর্গার মুখ। শিল্পীদের একাংশের বক্তব্য, কেউ ৫০টি, কেউ আবার ৭৫টি এমন মুখ বিক্রি করেছেন। কেউ আবার ১০০টিরও বেশি মুখ বেচেছেন। শিল্পী রবীন মালাকার বলেন, ‘থার্মোকলের উপর কারুকার্য করা দুর্গার মুখ ভালো বিক্রি হওয়ার পর এবার একইভাবে মা কালীর মুখ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী দিনে হয়তো থার্মোকলের ব্যবহারই উঠে যাবে।’ আক্ষেপ করে ওই শিল্পী বলেন, ‘জানি না, শেষ পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সব মিলিয়ে এই দোলাচলের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত পরিবেশ দূষণরোধে থার্মোকলের বিকল্প নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী নিদান দেওয়া হয়, সেদিকেই মুখিয়ে রয়েছেন পটুয়াপাড়া।