


ইমন চক্রবর্তী: সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি যে কোনও বয়সে, যে কোনও পেশায় আসতে পারেন। যে কোনও পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটতেই পারে। শুধু সেলেব বলে নয়। একেবারে সাধারণ ঘরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত যিনি, তাঁর ক্ষেত্রেও এহেন সম্পর্ক তৈরি হওয়া বিচিত্র নয়। আবার মেরিল স্ট্রিপ ৫০ বছর একজন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে কাটিয়েছেন। ওঁর মতো বড় সেলেব কে আছেন বলুন তো? আমার দেখা তো আর কেউ নেই। আমি ওঁকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। অথচ আমার পাশের বাড়িরই কারও হয়তো বিচ্ছেদ হয়েছে। এটা ভীষণ আপেক্ষিক।
একটা লোকের সঙ্গে দমবদ্ধ করে থাকার থেকে দুটো মানুষ যদি মুক্ত আকাশে ডানা মেলে বেড়াতে পারে, সেটাতে আনন্দ বেশি। আপনি কীভাবে বাঁচতে চান, জীবন থেকে আপনার প্রত্যাশা কী, সেটা তো আপনাকেই ঠিক করতে হবে। সেই মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর প্রেম তো অঙ্ক কষে হয় না। আমি সমাজ, পরিবেশ, পরিবারের চাপে দমবদ্ধ করে একটা মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর থেকে গেলাম, আর নিজে মনের দিক থেকে খুব খারাপ অবস্থায় থাকলাম, এর তো কোনও মানে নেই। তার থেকে দুটো মানুষ আলাদাভাবে থাকুক। কিন্তু ভালো থাকুক। সেটাই ভালো।
এখন আমাদের চারপাশে প্রলোভন অনেক বেশি। শুধু আমাদের পেশা বলে নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের প্রলোভন এত বেশি যে, নানারকম হাতছানি চোখের সামনে আসতে থাকে। কিন্তু বুঝতে হবে আমার মূল্যবোধটা কী? আমি কী চাই? ১০-১৫ বছর পরে কি আমার একই জৌলুস, একই রং, রূপ, বর্ণ থাকবে? তা তো নয়। কিন্তু ১৫ বছর পরে আমার পাশে থাকার মতো যে মানুষটা হবে, সেই মানুষটার সঙ্গে তো থাকতেই হবে। ঠিক যেমন, বাবা, মায়ের সঙ্গে কি কারও ডিভোর্স হয়? হয় না তো! তাহলে এই সম্পর্কটা আমরা খুব টেকেন ফর গ্রান্টেড ধরে নিই কেন? সম্পর্ককে যত্ন করতে জানতে হবে। যে পার্টনারের সঙ্গে আমি আছি, সেটা প্রেমের হোক বা বিয়ের সম্পর্ক— তার থেকে আমার চাওয়া পাওয়া কী, তা যদি পরিষ্কার হয়ে যায়, তাহলে কোনও প্রলোভন, কোনও হাতছানিতেই কিছু হবে না। সেই পরিস্থিতিতে সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি এসে পড়া মুশকিল। সাধারণত তা হয় না।