


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাতায়কলমে যে সংখ্যক বুকিং হয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি লোক থেকে গিয়েছেন দীঘায় রাজ্য পুলিশের গেস্ট হাউসে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সেখানকার কর্মীদের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে অতিথিরা কম টাকা দিচ্ছেন। গেস্ট হাউসের আয়ের টাকা পুলিশের তহবিলে না গিয়ে চলে যাচ্ছে অসাধু চক্রের হাতে। এসব দুর্নীতি রুখতে এবার ওই গেস্ট হাউসের বুকিংয়ের ব্যবস্থা অনলাইনে করতে চলেছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হচ্ছে সমস্ত জেলায়।
দীঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যেগে জগন্নাথ মন্দির তৈরি হওয়ার পর হোটেল বা গেস্ট হাউসের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও অনেক সময় থাকার জায়গা মিলছে না। অনেক পর্যটক বাধ্য হচ্ছেন রাতেই ফিরে আসতে। স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে দীঘায় রাজ্য পুলিশের গেস্ট হাউসের চাহিদাও। এই অবস্থায় রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা গত এক বছরে গেস্ট হাউসের আয় কত হয়েছে, তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। সেই সঙ্গে গেস্ট হাউসের রেজিস্টার বুকও নিয়ে আসা হয়। রেজিস্টার অনুযায়ী হাতেগোণা কয়েকজন অতিথি এখানে থেকে গিয়েছেন। অথচ খোঁজখখবর করতে গিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, যে সংখ্যক বুকিংয়ের কথা বলা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক এসে থেকে গিয়েছেন। কিন্তু রেজিস্টারে ‘এন্ট্রি’ করা হয়নি। অফলাইন বুকিং থাকার জন্যই এই কারচুপি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গেস্ট হাউস যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁদেরই একাংশ দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, এখানে আসা অতিথিদের কাছে খরচ বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে যথারীতি। কিন্তু সেই টাকা পুলিশের তহবিলে জমা পড়ছে না। সেখানকার কর্মীদের একাংশ এই টাকা নিজেদের পকেটে ঢোকাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখানো হচ্ছে যে বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন গ্রাহক। কিন্তু বাস্তব তা নয়। তই এই দুর্নাীতি বন্ধ করতে গোটা প্রক্রিয়া অনলাইন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে পুলিশ গেস্ট হাউসের ঘর বুকিং করতে হবে। টাকা মেটাতেও হবে অনলাইনে। এর ফলে যাবতীয় তথ্য রেকর্ড হয়ে থাকবে। কেউ তথ্য বিকৃতির চেষ্টা করলে তা সহজেই নজরে আসবে। কেউ বুকিং বাতিল করতে চাইলে বুকিংয়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে। সময় পেরনোর পর কেউ বুকিং করলে ২০ শতাংশ টাকা কাটা হবে বলে জানা গিয়েছে।