


সংবাদদাতা, তপন: মাত্র ১ হাজার ৬০০ ভোটে হারা তপন বিধানসভা কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে তফসিলি সংলাপে জোর তৃণমূল কংগ্রেসের। এসসি, এসটি ভোটারদের কাছে পৌঁছতে দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে শাসকদল। গত শুক্রবার থেকে তপন বিধানসভার চণ্ডীপুর অঞ্চলে তফসিলি সংলাপ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। রবিবার ফতেপুরে এই কর্মসূচিতে হাজির হন তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা, দাবি ও মতামত জানার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তপন ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বালুরঘাট ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তপন বিধানসভা কেন্দ্র। গোটা তপন বিধানসভা এলাকায় তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। বিধানসভা নির্বাচনে এই ভোটব্যাংক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
গত বিধানসভা নির্বাচনে তপন কেন্দ্রে মাত্র ১৬০০ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী বুধরাই টুডুর কাছে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী কল্পনা কিস্কু। সেবার তপন ব্লকের পাঁচটি অঞ্চলে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বালুরঘাট ব্লকের অধীনে থাকা আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। সেই কারণে এবার বালুরঘাট ব্লকের অন্তর্গত তপন বিধানসভার এলাকাগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংগঠন মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল।
‘তফসিলি সংলাপ’ নামে একটি ট্যাবলো নিয়ে তপন বিধানসভার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিন জনসংযোগ কর্মসূচি চালাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন নেতারা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য চালু হওয়া প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব পরিবার এখনো কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের কীভাবে সেই সুবিধা পাওয়া সম্ভব সে বিষয়েও বিস্তারিতভাবে জানানো হচ্ছে।
এই কর্মসূচিতে প্রধান ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদাকে। তাঁর সঙ্গে থাকছেন তৃণমূলের মূল সংগঠন ও শাখা সংগঠনের নেতারা।
সন্তোষ বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছি। রাজ্য সরকার আদিবাসীদের উন্নয়নে বহু প্রকল্প চালু করেছে। সেইসব প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রতিটি পরিবার পায়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি অন্য রাজ্যগুলিতে তফসিলিদের উপর যে অবিচারের ঘটনা ঘটছে, সেই বিষয়েও মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।