


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু বাংলার নির্বাচন পরিচালনার সামগ্রী সরবরাহে হঠাৎ করে গুজরাতের একটি সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দেওয়ার পিছনে অন্যকোনও অঙ্ক রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নটা তুলে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ব্যাপারে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজ্যের শাসক দলের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আজ, বৃহস্পতিবার নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন। আর বছরখানেক বাদেই বিধানসভা ভোট। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার নির্বাচন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে তৃণমূল। সেখানে জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১০০টি গাড়ির উপর ক্যামেরা লাগিয়ে নজরদারি করার একটি বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপত্তাজনিত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ভালো কোনও পদক্ষেপ নিতেই পারে। কিন্তু এই ১০০টি ভেহিকল ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনটি সংস্থা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি সংস্থা শূন্য পেয়েছে। অন্য সংস্থা পায় ১৫ নম্বর। আর গুজরাতের একটি সংস্থা পেয়েছে ১০০ নম্বর।
এখানেই তৃণমূলের প্রশ্ন, ক্যামেরা সংক্রান্ত কাজে যে সংস্থার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং অল্প টাকার বাজেট দেওয়া সত্ত্বেও তাদের কোনও সুযোগ না দিয়ে অন্য সংস্থার ভরসা রাখা হয়। যে সংস্থা বরাত পেয়েছে সেটি গুজরাতের। তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সহসভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্যকোনও রাস্তা নেওয়া হচ্ছে না তো? প্রশ্ন জাগছেই। কীসের ভিত্তিতে গুজরাতের ওই সংস্থাকে বরাত দেওয়া হল, তা নিয়ে সকলেরই প্রশ্ন রয়েছে।’
তৃণমূল জেনেছে, গুজরাতের ওই সংস্থাকে একবছরের জন্য কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে সামনের বছরেই বাংলায় বিধানসভা ভোট। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার কথা এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই। এখানেই চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘আগে যা হয়নি, এবারই তা হল। মনে হচ্ছে, সবকিছু আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। এর পিছনে অন্য অঙ্ক নেই তো? আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে গুজরাতের ওই সংস্থার বিষয়ে সব তথ্য জানিয়েছি।’
এদিন বিধানসভার অধিবেশনেও এই বিষয়টি তুলে ধরেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘বাংলার দক্ষ সংস্থা ছিল। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে গুজরাতের সংস্থাকে নির্বাচনী সামগ্রীতে বরাত পাইয়ে দেওয়াটা অনৈতিক বলেই মনে করি।’