


সংবাদদাতা, বনগাঁ: বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে এখনও ইস্তফা দেননি গোপাল শেঠ। দিন দু’য়েক আগেই তাঁকে ওই থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূল। দলের নির্দেশকে অমান্য করায় এবার গোপাল শেঠকে কড়া চিঠি দিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি। তাঁকে আগামী সাতদিনের মধ্যে পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে দল তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছেন শাসকদলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। শনিবার তিনি দলের ১৭ জন কাউন্সিলারকে নিয়ে জেলা কার্যালয়ে একপ্রস্থ বৈঠক করেন। সেখানে পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘ইতিমধ্যে পুরপ্রধানের পদত্যাগের সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। তিনি দলের নির্দেশ না মানায় পুনরায় তাঁকে চিঠি দেওয়া হল। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ইস্তফা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে দল কড়া পদক্ষেপ নেবে।’ তবে নতুন চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি বিশ্বজিৎবাবু। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ ইস্তফা দেওয়ার পর দল নতুন চেয়ারম্যান ঠিক করবে। যদিও এবিষয়ে চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক পদে একাধিক রদবদল এনেছে তৃণমূল। সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন মুখ এনেছে দল। জানা গিয়েছে, গত ৬ তারিখ বেশ কয়েকটি পুরসভার পাশাপাশি বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তারপর দু’দিন কেটে গেলেও চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ায় এদিন তাঁকে কড়া চিঠি দেয় জেলা তৃণমূল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পদত্যাগের নির্দেশের চিঠি পাওয়ার পর একাধিক কাউন্সিলারকে নিয়ে আলোচনায় বসেন চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। সূত্রের দাবি, ঘনিষ্ঠ মহলে পদত্যাগের নির্দেশের কথা অস্বীকার করেন গোপাল অনুগামীরা। কয়েকদিন ধরেই বনগাঁ শহরের চায়ের আড্ডায় মুখ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তাঁর পদত্যাগের কথা। এদিন সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা চলছে চর্চা।