


গুরুগ্রাম: তরুণীর উপর নৃশংস অত্যাচার। অভিযুক্ত লিভ-ইন পার্টনার। ত্রিপুরার ওই তরুণীর মারধর ও ছুরি নিয়ে কোপানোর অভিযোগও উঠেছে। নির্যাতিতার মায়ের দাবি, তাঁর মেয়ের গোপনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত। খুনের চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়। ব্ল্যাকমেলের নির্যাতিতার নগ্ন ভিডিয়ো তুলে রাখে ওই যুবক। টানা তিনদিন ঘরে আটকে রেখে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। হরিয়ানার গুরুগ্রামের এই ঘটনায় তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী শিবমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে নির্যাতিতা। শিবমের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গুরুগ্রামের সেক্টর ৬৯-এর একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকতেন বায়ো টেকনলজির ওই পড়ুয়া। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনলাইন ডেটিং অ্যাপে দিল্লির নারেলার বাসিন্দা শিবমের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। কয়েক মাস পর দু’জনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করে। বিয়ে নিয়েও আলোচনা চলছিল। এরইমধ্যে নির্যাতিতাকে সন্দেহ করতে শুরু করে শিবম। তরুণী জানিয়েছেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি এবিষয়ে তাদের বচসা হয়। তারপরেই নির্মম অত্যাচার শুরু করে শিবম।
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় স্টিলের বোতল ও মাটির কলসি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাথা ঠুকে দেওয়া হয় দেওয়ালে। গায়ে প্রস্রাবও করে শিবম। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিবমের ফোন থেকে মাকে ফোন করেন নির্যাতিতা। মাকে কাতর গলায় তিনি বলেন, ‘আমাকে জীবিত দেখতে চাইলে এখনই খুঁজে বের কর।’ ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করেন তরুণীর মা। কিছুক্ষণ পরে পিজি থেকে নির্যাতিতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় গুরুগ্রাম পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় শিবমকে।