


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: রবিবার সকাল থেকেই তারকেশ্বর মন্দিরে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। শুধু এই রাজ্য নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তাঁরা। এদিন বিকেল ৫টার পর শিব চতুর্দশীর শুরু। তাই বেলা যত গড়িয়েছে, ততই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভক্তদের ভিড়।
এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। মন্দিরে ঢোকার মুখেই বসানো হয়েছিল মেটাল ডিটেক্টর। প্রত্যেক পুণ্যার্থীকে তার মধ্যে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়েছে। ফুল ও আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে মন্দির। সাধারণত প্রতি রবি ও সোমবার গর্ভগৃহে ভক্তদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তবে এদিন শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।
তারকেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত মণ্ডলীর সভাপতি সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, শিব হচ্ছেন বিশ্বের আদি দেবতা। শিব কথার অর্থ মঙ্গল অর্থাৎ মানুষের মঙ্গল কামনার জন্য পুজো দিতে ছুটে আসেন পুণ্যার্থীরা। বছরে এই দিনেই সারারাত মন্দির খোলা থাকে। চার প্রহর তারকনাথের মাথায় জল ঢালেন পুণ্যার্থীরা।
তারকেশ্বরে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে মন্দিরে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুণ্যার্থী পুণ্য অর্জনের জন্য ছুটে আসেন। পৌরাণিক মতে, একাধিক কাহিনি কথিত আছে। কেউ বলেন, এই দিন শিবের বিয়ে হয়েছিল। অনেকে বলেন, সমুদ্রমন্থনের বিষ এইদিনে পান করেছিলেন শিব। কথিত আছে, এক ব্যাধ বেলা শেষে বাড়ি ফিরতে না পারায় গাছের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেদিন ছিল শিব চতুর্দশী। যে গাছটির মধ্যে সেই শিকারি ব্যাধ আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেটি ছিল বেলগাছ। গাছের নিচে ছিল একটি শিব লিঙ্গ। রাতে পাতা থেকে জল গড়িয়ে পড়ে শিবের মাথায়। বেলগাছ থেকে সেই সময় পড়ে একটি বেলপাতাও। ব্যাধের উপর সন্তুষ্ট হয়ে শিবলোকে স্থান পেয়েছিলেন ওই ব্যাধ। এখান থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল শিবের। এছাড়াও শিবরাত্রি নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। পরিবার ও সকলের মঙ্গল কামনার জন্য উপবাস করে অনেকেই গঙ্গাজল আর বেলপাতা দিয়ে শিবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন।
এদিন তারকেশ্বর মন্দির এলাকায় পুলিশি তৎপরতা ছিল নজরকাড়া। পুরসভার পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও দমকল বিভাগের কর্মীরাও শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে মন্দির এলাকায় ছিলেন তৎপর। নিজস্ব চিত্র