


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গ্রামে নারীর ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে রূপটানের প্রশিক্ষণ। সাজসজ্জা থেকে ভ্রু ‘প্লাক’ করা, গ্রামে গ্রামে এখন এই পরিষেবা প্রদান করছেন কিছু মহিলা। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রামের মহিলারা এই প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ পার্লার খুলে ব্যবসা করছেন, আবার কেউ বাড়ি থেকেই অন্য মহিলাদের সাজিয়ে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন।
পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ কম্প্রিহেনসিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। কৃষি, মৎস্যচাষের পাশাপাশি সেলাই, পশুপালন ইত্যাদি প্রশিক্ষণ ছিলই। বছর দুয়েক আগে এগুলির সঙ্গে বিউটিশিয়ান কোর্সও চালু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মহিলাদের আগ্রহ কম থাকলেও গত বছর থেকে অনেকেই এই প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার বেশ কিছু পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকেই এই প্রশিক্ষণে আগ্রহ বেশি দেখা গিয়েছে। শহর বা মফস্বলে পার্লারে যাওয়ার চল যেভাবে জনপ্রিয়, তেমনই গ্রাম বাংলাতেও এই পরিষেবা জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ফলে কিছু মহিলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রোজগারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বাঁকুড়ার অর্ধগ্রামের বাসিন্দা ঝুমা রায় ১৫ দিনের বিউটিশিয়ান কোর্স করে এখন নিজের পার্লার খুলে মাসে ৪০০০ টাকা আয় করছেন। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় ১৩ জন মহিলা এই কাজ শিখে এখন গ্রামের কিশোরী থেকে মহিলাদের রূপচর্চার নানা পরিষেবা দিচ্ছেন। এছাড়া নদীয়ার হরিণঘাটা ব্লকের কপিলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা পূজা দত্ত এই কাজ রপ্ত করে পাড়ায় পাড়ায় কনে সাজানো থেকে রূপটানের নানা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে এই ধরনের কাজ করব বলেই ঠিক করেছিলাম। প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে সেটা হাতছাড়া করিনি। এমন সাড়া দেখে এই বছর আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে বিউটিশিয়ান কোর্স করানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দপ্তর।