


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ প্রাথমিকে ১২৪১ জন প্রার্থীর কাউন্সেলিংয়ের বিষয়ে একাধিক নির্দেশের পরও কোনো পদক্ষেপ করেনি রাজ্য ও স্কুল সার্ভিস কমিশন। যে কারণে এবার স্কুলশিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব, কমিশনার অব স্কুল এডুকেশন, এসএসসির চেয়ারম্যান ও সচিবকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। এদিন রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই এই নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ১৪০৫২ জনের নিয়োগ সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর ১২৭২৩ জনের কাউন্সেলিং সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ১২৪১ জনের কাউন্সেলিং থমকে রয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০ নভেম্বরের মধ্যে বাকি প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু তার পরেও নিয়োগ হয়নি। একাধিকবার মামলার শুনানিতে গরহাজির ছিলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)। রাজ্যের তরফে আইনজীবী এদিন জানান, এজির সঙ্গে প্রধান সচিবের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। একথা শোনার পরই রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, ‘আদালতের সঙ্গে আপনারা খেলা করছেন? স্কুলশিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব কি আদালতেরও ঊর্ধ্বে?’ তারপরই এই মামলায় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব, কমিশনার অব স্কুল এডুকেশন, এসএসসির চেয়ারম্যান ও সচিবকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। ৩০ মার্চ দুপুর ২টোয় হাজিরা দিতে হবে তাঁদের।
পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘আগের কাউন্সেলিং পর্বে ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ প্রার্থী অনুপস্থিত ছিল। ১২ থেকে ১৫ শতাংশ প্রার্থী যোগদান করেননি। আদালতের নির্দেশে কাউন্সেলিং সম্পন্ন করতে হবে।’