


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন-এর (স্যার) জেরে বাদ পড়েছে প্রায় ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম। এবার বাংলাতেও একই ভাবে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ফায়দা তুলতে মরিয়া পদ্ম শিবির। কিন্তু বাংলায় সুনির্দিস্ট ভাবে ‘স্যার’এর দিনক্ষণ ঠিক না হলেও, এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছে বিজেপি। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের একাংশকে কাজে লাগিয়ে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোনও কসুরই বাদ দিচ্ছে না তারা। এবার অভিযোগ উঠল, ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ উদযাপনকে ঢাল করে পুলিস পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ‘স্যার’এর উপযোগিতার প্রচার চালাতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ -এর সঙ্গে নির্বাচন আর ভোটার সচেতনতা শিবিরের কী যোগ রয়েছে? মমতার নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের প্রেক্ষাগৃহকেই বা কেন বেছে নেওয়া হল এই প্রচার অভিযানের জন্য? প্রশ্নের জবাব মেলনি কমিশনের তরফে। তবে এই নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তাঁর কথায়, ওরা (কমিশন) রাজ্যকে না জানিয়েই নির্দেশ দিয়ে চলেছে। এখনও রাজ্যে নির্বাচন হতে কয়েক মাস বাকি রয়েছে। মমতার অভিযোগ, এখন থেকেই নির্বাচন কমিশনের একাংশ বিজেপির কার্ড খেলতে শুরু করে দিয়েছে। ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আগামী ২৫ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী সচেতনতার লক্ষ্যে একটি শিবির করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অদ্ভুত ভাবে এর জন্য টার্গেট করা হয়েছে, কলকাতা পুলিসের আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে বসবাসকারী পুলিস আধিকারিক-কর্মীদের পরিবারকে। আর সেই কারণেই বডিগার্ড লাইন্সের প্রেক্ষাগৃহে এই অনুষ্ঠানটি করতে চেয়ে কলকাতা পুলিস ডেভেলপমেন্ট, ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড গ্রিভান্স রিড্রেসাল কমিটির কনভেনরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অ্যাসিস্টেন্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তরফে। যদিও ওয়েলফেয়ার কমিটি এই প্রেক্ষাগৃহের দৈনন্দিন কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়। প্রেক্ষাগৃহের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম কমিশনার (সশস্ত্র পুলিস)।