


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে গ্রেপ্তারির ১১ দিনের মাথায় চাঞ্চল্যকর মোড়। গার্ড রুমে প্রথম বর্ষের ছাত্রীর উপর যখন মনোজিৎ বাহিনীর নারকীয় নির্যাতন চলছিল, তখন কলেজেই ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল ডঃ নয়না চট্টোপাধ্যায়? অন্তত সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজের রেজিস্টার সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। কারণ তাতে স্পষ্ট লেখা আছে, ২৫ জুন ভাইস প্রিন্সিপাল কলেজে ঢুকেছেন ৯টা ৫০ মিনিটে (ইন টাইম), আর কলেজ ছেড়েছেন ৯টা ৫০ মিনিটে (আউট টাইম)। সময়ের পাশে নয়নাদেবীর সই। পাশে এএম বা পিএম লেখা না থাকলেও স্বাভাবিক বুদ্ধিতে বলে, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ভাইস প্রিন্সিপাল কলেজে ঢুকেছেন এবং নিশ্চয়ই তখনই বেরিয়ে যাননি! সেক্ষেত্রে তিনি কি রাত ৯টা ৫০ মিনিটে কলেজ ছেড়েছেন? অন্যদিনও কিন্তু নয়নাদেবী ইন এবং আউট টাইমের পাশে এএম বা পিএম লেখেন না। ডিপারচার টাইম দুপুর হোক বা বিকেল। সেক্ষেত্রে ঘটনার দিন তিনি রাতে বেরিয়েছেন বলেই ধরে নিচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ। তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর কলেজে উপস্থিত থাকাকালীনই সেদিন গার্ড রুমে গণধর্ষণ হয়েছে। যদিও তাঁর দাবি, ‘ওইদিন দুপুরেই দেড়টা-দুটো নাগাদ কলেজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।’ তাহলে রেজিস্টার অন্য কথা বলছে কেন? কোনও তথ্য কি গোপন করা হচ্ছে? নাকি রেজিস্টার ‘ট্যাম্পার’ করা হয়েছে? উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।
আজ, মঙ্গলবার পুলিস হেফাজত শেষে গণধর্ষণ কাণ্ডের চার অভিযুক্তকে ফের আলিপুর আদালতে তোলা হবে। কিন্তু তার আগেই এই নয়া তথ্য নাড়িয়ে দিয়েছে গোয়েন্দা মহলকে। এখানে উঠে আসছে নির্যাতিতার অভিযোগপত্রের প্রসঙ্গও। কারণ, পুলিসকে ছাত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ফর্ম ফিল আপের জন্য ২৫ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজে এসেছিলেন তিনি। কলেজ ছুটি শেষেও দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁকে প্রথম কুপ্রস্তাব দেয় মনোজিৎ মিশ্র। প্রস্তাবে রাজি না হলে ছাত্রীকে গার্ড রুমে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। সঙ্গে চলে নগ্ন ভিডিও শ্যুট। এই কুকীর্তি চলে রাত ১০টা ৫০ পর্যন্ত। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ধৃতদের কল ডিটেলস রেকর্ড থেকে ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। আর রেজিস্টার যা বলছে, তাহলে তো ভাইস প্রিন্সিপাল নিজেও তখন কলেজেই ছিলেন! তবে এখানেও একটা ট্যুইস্ট আছে। ২৫ জুন অ্যারাইভালের সময় লেখা আছে ৯:৫০, আর ডিপারচার ৯.৫০। অর্থাৎ, প্রথমটিতে ঘণ্টা ও মিনিটের মাঝে কোলন (:) ব্যবহার করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয়টিতে ডট (.)। দু’টির হাতের লেখারও সামান্য ফারাক মনে হচ্ছে। প্রশ্ন হল, তাহলে কি সময়টা অন্য কেউ লিখে দিয়েছে? সেক্ষেত্রে পাশে ভাইস প্রিন্সিপালের সই এল কীভাবে? এই পরিস্থিতিতে জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে নয়নাদেবীর ‘বয়ান বদল’। আগে দেড়টা-দুটোয় বেরনোর কথা বললেও সোমবার কলেজে এসে তিনি বলেছেন, ‘ওইদিন আমি সকাল ৯টা বেজে ৫০ মিনিটেই বেরিয়ে গিয়েছি।’ হঠাৎ দু’রকম বক্তব্য কেন? সঠিকভাবে কখন বেরিয়েছিলেন তিনি কলেজ থেকে? নিশ্চিত হতে এবার গোয়েন্দাদের হাতিয়ার নয়নাদেবীর কল ডিটেলস এবং টাওয়ার লোকেশন।