


নেটফ্লিক্সে-র সিরিজ ‘হ্যালো বাচ্চো’য় অভিনয় করার পর ফের চর্চায় বিনীত কুমার সিং। একান্ত সাক্ষাৎকারে নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেতা।
প্রখ্যাত শিক্ষক অলখ পাণ্ডে-কে আপনি পর্দায় তুলে ধরেছেন। ওঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন?
অবশ্যই। ক্লাসরুমের বাইরে অলখ পাণ্ডে কেমন মানুষ সেটা বোঝা জরুরি ছিল। পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, দৈনন্দিন জীবনযাপন আর আচরণের সূক্ষ্ম দিকগুলো বুঝতে চেয়েছিলাম। তাঁর জীবনের ছন্দ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং শারীরিক ভাষা চরিত্রটা ধরতে সাহায্য করেছে। কারণ কাজের জায়গা আর ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ বেশিরভাগ সময়ই আলাদা হন।
আপনি নিজেও মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন। অভিনেতার পাশাপাশি আপনি একজন চিকিৎসক। এই সিরিজের মাধ্যমে কি নিজের ক্লাসরুমের কথা মনে পড়েছিল?
এই চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেক অনুভূতিই আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়। আমার পরিবারের প্রায় সবাই শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত। তাই এই জগতের নানা দিক আমি নিজের জীবনেই অনুভব করেছি।
আপনি কি মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে?
আমি মেডিকেলের পড়াশোনা করেছি খুবই কম খরচে। আজও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অনেকের কাছে মূল্যবান। কিন্তু প্রশ্ন হল, সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রেও এমন বিশ্বাস কেন নেই? আমি নিজে সরকারি স্কুলে পড়েছি এবং সেখানে ভালো শিক্ষকের অভাব ছিল না। তবুও এখন মানুষ সন্তানকে সেখানে পাঠাতে চান না। শিক্ষার খরচ ক্রমশ বাড়ছে, তবুও মানুষ কষ্ট করে তা বহন করছেন, কারণ শিক্ষা জীবনের ভিত্তি। তবে দুঃখের বিষয়, অনেকেই আজ শিক্ষকতা করছেন শুধুই জীবিকার তাগিদে, পেশার প্রতি ভালোবাসা থেকে করছেন না।
আপনি এনএসডি-তে অভিনয় নিয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পারিবারিক চাপে মেডিকেল কলেজে যেতে হয়েছিল। দমবন্ধ লাগেনি?
আমি জানতাম, ওঁরা আমার ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে সেই পথের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারছিলাম না, সেখানেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমাদের পরিবারে বাবার কথাই শেষ কথা ছিল। তাই নিজের ইচ্ছে চাপা দিয়েই এগতে হয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল, ডাক্তারি ডিগ্রি থাকলে ভবিষ্যতে অভিনয় করলেও ওঁদের নিরাপত্তাবোধ থাকবে। শেষ পর্যন্ত, নিজের স্বপ্ন আর পরিবারের প্রত্যাশার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এগতে হয়েছে।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই