


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: শুক্রবার, ৬ মার্চ সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছিলেন, ‘যুদ্ধের জেরে ভারতে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। যথেষ্ট মজুত এবং সরবরাহ আছে। আম জনতার চিন্তার কারণ নেই।’ সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটের ঘোষণা। আর সেদিন রাতেই রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছিল সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা! সোমবার লোকসভায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও ভারতের মূল্যবৃদ্ধির উপর তার খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’ অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য সাধারণের মধ্যে নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে—‘খুব একটা’ কথার অর্থ কী? এই মন্তব্য কি ভরসার থেকে বেশি ভয়ের নয়? তাহলে কি পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়তে চলেছে? এই উদ্বেগে ইন্ধন দিয়েছে নির্মলার আর একটি মন্তব্য—‘এখন আমরা আর আগের মতো কম দামে কিন্তু অশোধিত তেল কিনছি না! ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমায় ব্যারেল প্রতি জ্বালানির ক্রয়মূল্য ৬৯.০১ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০.১৬ ডলার।’ অর্থাৎ ভারত যে ২ মার্চের পর থেকে ১১ ডলার বেশি দামে অশোধিত তেল কিনছে, সেটা স্পষ্ট করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু দু’টি বিষয় আড়ালে রেখেছেন তিনি। প্রথমত, ২ মার্চের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। এই মুহূর্তে প্রায় ১০০ ডলার। দ্বিতীয়ত, কোন সীমা পেরিয়ে গেলে খুচরো বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়বে? বিরোধীরা বলছে, ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি এর মধ্যেই বেশি দামে অশোধিত তেল কিনছে, সেটাই জানিয়ে রাখলেন অর্থমন্ত্রী। যাতে পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির রাস্তাও প্রশস্ত হয়। আর তাই আম জনতার মনে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য—রান্নার গ্যাসের পর এবার পেট্রল-ডিজেলও মহার্ঘ? তাহলে যুদ্ধ শুরুর পর ১০ দিন কেটে গেলেও বারবার ভারত সরকার কেন বিবৃতি দিয়ে চলেছে যে, জ্বালানি সংকট নেই?
কারণ একটাই—এই সরকারের মুখে এক, কাজে আর এক। এতকাল যে কোনও সংকটে সরকারের দিকে দেশের নাগরিক তাকিয়ে থাকত ভরসা পাওয়ার জন্য। সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে নাগরিক স্বস্তি পেত। এখন বিপরীত। সরকারের ভরসাতেও মানুষের আশঙ্কা কমে না। গত শুক্রবার ৬ মার্চ হরদীপ সিং পুরীর মন্তব্যই তার প্রমাণ। ‘ভারতবাসীকে জ্বালানি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হবে না’—স্বয়ং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই বিবৃতির পর রান্নার গ্যাসের দাম যে বেড়েছে তাই নয়! গ্যাসের সাপ্লাই সংকটও মাথাচাড়া দিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে সিএনজি সাপ্লাইয়ে শুরু হয়েছে কালোবাজারিও। অথচ সোমবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ কমিটি জানিয়েছিল, যদি অশোধিত তেলের দাম আমাদের পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি হয়, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির উপর প্রভাব পড়বে ৩০ বেসিস পয়েন্ট!’ আশ্বাস? নাকি হুঁশিয়ারি? অর্থাৎ আম জনতা প্রস্তুত থাকুন। কিছুটা প্রভাব পড়তে চলেছে।