


নিতাই সাহা, সিউড়ি: বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আবহাওয়ার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। খানিকটা বিরাম পড়েছে বৃষ্টিতে। ফলত ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তিলপাড়া ব্যারাজের জরুরিভিত্তিক সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। ফলত সেচ দপ্তরের আধিকারিকেরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে। তবে আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন করে আবহাওয়ার অবনতি হলে ব্যারাজ সংস্কারের কাজের গতি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। জেলা সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ব্যারাজের জরুরিভিত্তিক সংস্কারের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে।ধাপে ধাপে কাজ করা হচ্ছে। দু'ধারে কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে মাঝের অংশের সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। তাঁর আরও সংযোজন, বৃষ্টিতে খানিকটা ইতি পড়ায় জলস্তর ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলত, একটানা ১০দিন এমন আবহাওয়া থাকলে সংস্কারের কাজে আরও গতি আসবে।
২০১৯ সালে তিলপাড়া ব্যারাজে ফাটল নজরে আসে। সেসময় কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যারাজ সংস্কারের জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। যদিও কেন্দ্রের তরফে অনুমতি না মেলায় সেসময় সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৪ সালে এককভাবে উদ্যোগ নেয় রাজ্য। ২০২৫ সালের মার্চ মাস নাগাদ শুরু হয় সংস্কারের কাজ। জুলাই মাসে সেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। যদিও তার আগেই ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে সংস্কারের নির্মাণ কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যারাজের একাধিক লকগেট খুলে অবিরাম জল ছাড়ার ফলে ধাপে ধাপে ব্যারাজের ফাটল বাড়তে থাকে। প্রথমেই ডিভাইড ওয়ালের ফাটল দেখা দেয়। সেইসঙ্গে নীচ থেকে বালি ও মাটি সরে যাওয়ার ডিভাইড ওয়াল ক্রমেই নীচের দিকে বসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে একাধিক র্যাফটও ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যারাজকে টিকিয়ে রাখতে ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদের পরামর্শ মেনে জরুরিভিত্তিক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। গত সপ্তাহের শনিবার সকাল থেকে সেই কাজ শুরু হয়েছে।
প্রথম ধাপে ব্যারাজের ডাউন স্ট্রীমের দুই প্রান্তে বোল্ডারের তৈরি ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। কাজ অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। আধিকারিকদের কথায়, বৃষ্টিতে বিরাম পড়ার ফলে কাজে কিছুটা গতি এসেছে। তবে আবহাওয়ার উপর নজর রেখে প্রায়শই সংস্কারের কাজের রূপরেখা বদল করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অবশ্য ড্যাম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনেই সব কাজ করা হচ্ছে। দপ্তরের আধিকারিকদের মন্তব্য, বর্ষার মরশুমে ব্যারাজ টিকিয়ে রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ।