


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: স্টেশন চত্বর জুড়ে সারি সারি পুলিশ। সকলের হাতেই ইনসাস বা স্মল আর্মস। বিস্ফোরক চিনতে পারদর্শী স্নিফার ডগকে নিয়ে যাত্রীদের ব্যাগ, ট্রেনের কামরা, রেলওয়ে ট্র্যাক পরীক্ষা চলছে লাগাতার। দিল্লি বিস্ফোরণ পরবর্তী পর্যায়ে এটাই এখন হাওড়া, শিয়ালদহ বা ভারতের যে কোনও বড় রেল স্টেশনের চিত্র। যেখান দিয়ে দৈনিক তিরিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই তৎপরতা? কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, কাশ্মীর-ফরিদাবাদের মেডিকেল মডিউলের জঙ্গিরা তাদের হাতে থাকা কয়েক হাজার কেজি বিস্ফোরক অন্যত্র সরাতে উঠেপড়ে লেগেছে। পরিমাণটা চক্ষু চড়ক গাছ হওয়ার মতোই। গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা ঘটানোর ছকে, প্রায় সাত হাজার কেজি বিস্ফোরক বিভিন্ন স্ট্যাক ইয়ার্ডে মজুত করেছিল জয়েশ-ই-মহম্মদ প্রভাবিত জঙ্গিদের নতুন মডিউল। দিল্লি বিস্ফোরণের পর পুলিশ-এজেন্সির তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তা অন্যত্র সরাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গি মডিউল।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই পর্বে রেলের লাগেজ ভ্যানকে মাধ্যম করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরক ছড়িয়ে দিতে চাইছে মেডিকেল মডিউল। এই আবর্তে জঙ্গিদের ‘লালনক্ষেত্র’ আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক-পড়ুয়া ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ায় পুলিশ-এজেন্সির চিন্তা বেড়েছে। তবে কি এরাই অন্তরাল থেকে বিস্ফোরক ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন প্রান্তে? উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। তবে রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ রাজ্য সহ গোটা দেশে তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে নিরাপত্তা এজেন্সি ও বাহিনী। প্রসঙ্গত, দিল্লি বিস্ফোরণের প্রাক পর্ব পর্যন্ত কাশ্মীরের জম্মু এবং ফরিদাবাদ থেকে প্রায় তিন হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল। গোয়েন্দারা মনে করছেন, মেডিকেল মডিউল মজুত করেছিল প্রায় ১০ হাজার কেজি বিস্ফোরক। বাকি সেই বিস্ফোরকের খোঁজই দেশজুড়ে চলছে। এরই মাঝে লোকাল ও মেট্রো রেল পথ, স্টেশন ও যাত্রীদের সুরক্ষায় মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছে আরপিএফের স্পেশাল (কমান্ডো) ফোর্সের তিনটি কোম্পানি। বুধবার থেকে জওয়ানরা পাহারা দেওয়ার কাজও শুরু করেছেন।
বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের মোবাইলে আড়িপাতা শুরু করেন। পাশাপাশি জঙ্গি মডিউলের মহিলা সদস্য শাহিন শাহিদ ও মুজাম্মিল সহ বিভিন্নজনকে দফায় দফায় জেরা চলে। গোয়েন্দারা জানতে পারছেন, তিন হাজার কেজির অনেক বেশি বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল। যে সমস্ত রাজ্যে হামলার ছক কষা হয়েছিল সেখানে বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বিস্ফোরক মজুত করেছে জয়েশের সদস্যরা। আইইডি তৈরির জন্য বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। স্থানীয়ভাবেই এগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে। জঙ্গিদের নিজস্ব গ্রুপে বিস্ফোরক সংগ্রহ করার বিষয়টি একাধিক কথাবার্তা রয়েছে। কোথায় কীভাবে কার কাছ থেকে বিস্ফোরক আনতে হবে, তাই নিয়ে বিস্তর আলোচনার তথ্যও রয়েছে। কোথায় কত কেজি বিস্ফোরক রাখা হবে, তার হিসাবও হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। তা একজোট করে তাঁরা জানতে পারছেন, এই বিস্ফোরকের পরিমাণ ১০ হাজার কেজি কম নয়। তার বেশি হলেও, আশ্চর্যের কিছু নেই!