


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: গ্রামেগঞ্জে হাতুড়ে আয়ুর্বেদের হাতে পড়ে মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি হলেও নেওয়া যাচ্ছে না কোনও ব্যবস্থাই। অথচ বর্তমান আইন অনুযায়ী, কাউন্সিলের কর্মসমিতির সিদ্ধান্ত ক্রমে তাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে। বিহিত হতে পারে চিকিৎসায় গাফিলতির।
দেশ এখন ডিজিটাল ভারত। অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের রাজ্যওয়ারি কাউন্সিলগুলিও চিন্তাভাবনা-কাজে বহু এগিয়েছে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন বা পুনর্নবীকরণ ছাড়া কার্যত আর কোনও কাজই হচ্ছে না রাজ্যের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের নিয়ামক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ আয়ুর্বেদ পরিষদে। বর্তমানে তা রয়েছে একেবারে ‘অক্ষম’ অবস্থায়। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে এই চাঞ্চল্যকর খবর।
কেন এই পরিষদ বর্তমানে ‘অক্ষম’ অবস্থায় রয়েছে? কারণ একটাই, ২০২২ সালের জুন মাসে মেয়াদ ফুরিয়েছে আগের নির্বাচিত কাউন্সিলের। ফলে সাড়ে তিন বছর ধরে এই কাউন্সিল রয়েছে নখদন্তহীন অবস্থায়। বর্তমানে এখানে নেই কোনও প্রেসিডেন্ট। নেই ভাইস প্রেডিডেন্ট বা কর্মসমিতির কোনও সদস্য। তাই কার্যত অস্তিত্বই বিপন্ন এই পরিষদের।
আয়ুর্বেদের জাতীয় কমিশন বা ন্যাশনাল কমিশন ফর ইন্ডিয়ান সিস্টেম অব মেডিসিনের বোর্ড অব এথিক্স অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশনের সভাপতি ডাঃ রজনী এ নায়ার সম্প্রতি চিঠি লিখে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ আয়ুর্বেদ পরিষদের রেজিস্ট্রারকে চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছেন, পরিষদের কাজকর্ম বন্ধ থাকার ব্যাপারে তাঁদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বঙ্গীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসক সংঘ। পরিষদকে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেও বলেছেন তিনি। রেজিস্ট্রার ডাঃ বিশ্বজিৎ মণ্ডল চিঠির উত্তরে জাতীয় কমিশনকে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারকে বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ আয়ুর্বেদ পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মসমিতি গঠিত হয়। ৪৭ বছর পর হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক নির্বাচন। তার আগে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে দফায় দফায় কাউন্সিল বা পরিষদ চলত। চার বছর ছিল সেই নির্বাচিত কাউন্সিলের কর্মসমিতির মেয়াদ। যা শেষ হয় ২০২২ সালের ২১ জুন। তারপর থেকে এই সাড়ে তিন বছর ধরে না হয়েছে নির্বাচন, না গঠিত হয়েছে কোনও অ্যাডহক কমিটি।
নির্বাচন হলে পশ্চিমবঙ্গ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন আইন, ১৯৬১ অনুযায়ী ১০ জন নির্বাচিত এবং ১২ জন মনোনীত সদস্যকে নিয়ে গঠিত কর্মসমিতি পরিষদ চালাবে। অন্যদিকে, অ্যাডহক কমিটি গঠিত হলে সরকার মনোনীত সাত সদস্যের অ্যাডহক কমিটিই পরিষদ চালাবে (৬ মাস বা ১ বছরের জন্য)। সরকারই মনোনীত করে দেবে সভাপতি। কোনওটাই না হওয়ায় প্রশিক্ষিত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা পড়েছেন ফাঁপরে। ন্যূনতম প্রশাসনিক কাজ ছাড়া কিছুই হচ্ছে না সেখানে। ক্ষোভের পারদও চড়ছে ক্রমেই। এই বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিষদের রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎবাবু জানিয়েছেন, ‘আমার তরফে এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে যতটুকু করা যায়, করছি।’