


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবুজ বাজির নাম করে রাজ্যের সর্বত্র রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে বেআইনি বাজি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। পুজোর ছুটির পর রাজ্যকে ওই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ২০২১ সালে রাজ্যের জারি করা বাজি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করতে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা জানাতে হবে আদালতে।
রাজ্যজুড়ে পরিবেশবান্ধব বাজির নাম করে বেআইনি বাজি বিক্রি হচ্ছে— এই অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার পূজাবকাশকালীন বেঞ্চে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যে নির্দেশিকা জারি করেছিল, সেখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, সব ধরনের বাজি নিষিদ্ধ করে শুধু সবুজ বাজি তৈরি হোক। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেআইনি বাজি বিক্রি বন্ধ করতে রাজ্য কী কী পদক্ষেপ করেছে, শুনানির প্রথম দফায় রাজ্যকে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তৎক্ষনাৎ উত্তর দিতে না পারলেও শুনানির পরবর্তী অংশে রাজ্য জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। সমস্ত জেলার কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত পাঠানো হয়েছে। ৯৩টি বাজি প্রস্তুতকারী সংস্থার লাইসেন্স ও ৮৫২টি বাজি বিক্রির লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। জেলাগুলিতে বাজি কারখানা পরিদর্শনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ১৬০ জনকে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই নির্দেশিকা জারি করা হবে।
কিন্তু রাজ্যের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। আদালত মন্তব্য করে, ‘রাজ্য শুধু পেপার ওয়ার্কস করে দায় এড়াতে চাইছে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের কোনও সদিচ্ছা নেই। আপনাদেরই তো রেজোলিউশন। এতদিন কী করছিলেন? বাজির বাজার বসে গিয়েছে। সর্বত্র নজরদারি চালাতে পারে না আদালত। ব্যবস্থা আপনাদেরকেই নিতে হবে।’ এরপরই আদালত নির্দেশে জানায়, কালীপুজোর আগে ও পরে বাতাসে দূষণের মাত্রা নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। রাজ্যের জারি করা গাইডলাইন কার্যকর করা নিয়ে পুজোর ছুটির তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে হবে।