


মুম্বই: মধ্যরাতের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে এসেছে আমেরিকা। এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল তোলপাড়। এরইমধ্যে আজব মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন মহারাষ্টের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পৃথ্বিরাজ চব্যন। কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, ‘ভেনেজুয়েলায় যা হয়েছে, তেমন কি ভারতেও হতে পারে? ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাবেন?’ এই মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পৃথ্বিরাজ। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের প্রাক্তন ডিজি এস পি বৈদ কংগ্রেস নেতাকে একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই বক্তব্য গোটা দেশের পক্ষে অপমানজনক। নেট দুনিয়াতেও কটাক্ষের মুখে পড়েছেন পৃথ্বিরাজ। ভারতের মতো পরমাণু শক্তিধর দেশের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা টানাকে হাস্যকর বলে তোপ দেগেছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে অস্পষ্ট অবস্থানের মোদি সরকারকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গেই মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানা আর্ন্তজাতিক আইনের পরিপন্থী। একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করা হয়েছে। আগামীতে যে কোনও দেশের সঙ্গে এটা হতে পারে। এমনকি ভারতের সঙ্গেও।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ভারত স্পষ্ট কোনও অবস্থান নেয়নি। অথচ চীন, রাশিয়ার মতো দেশ আমেরিকার সমালোচনা করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-হামাস সংঘাতেও কেন্দ্র সরকার কোনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। আমরা এতটাই ভয় পেয়েছি যে আমেরিকার সমালোচনাও করতে পারছি না।’
মার্কিন শুল্ক ইস্যুতেও মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। চ্যবন বলেন, ‘৫০ শতাংশ শুল্কের ধাক্কায় ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবেন না বলেই এমনটা করেছেন ট্রাম্প। শুল্ক এখানে বাণিজ্য বন্ধ করবার হাতিয়ার এবং ভারতকে সেই বোঝা বইতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকায় রপ্তানি থেকে আমাদের আয় বন্ধ হয়েছে। আমাদের এখন বিকল্প বাজারের খোঁজ করতে হবে।’ এর আগেও অপারেশন সিন্দুর নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন চ্যবন।