


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর মাত্র ৭২ ঘন্টা। ভারতের উপর চড়া হারে আমদানি শুল্ক বলবৎ সংক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা কি পরিবর্তন হবে? নাকি শেষ মুহূর্তে কোনও আচমকা স্বস্তি অপেক্ষা করছে? ভারত ও আমেরিকার শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মধ্যে প্রবল টানাপোড়েন চলছে। যাকে সরকারি সূত্রে একপ্রকার স্নায়ুর লড়াইও বলা হচ্ছে। শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, আমরা আলোচনা চালাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক বলা যায়। এটুকু নিশ্চয়তা দেওয়া যায় যে, দ্বিপাক্ষিক যে বাণিজ্য চুক্তি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হবে, সেটা দুই দেশের পক্ষেই সুধিবাজনক। কোনও দেশেরই লোকসান হবে না। একদিকে পীযূষ গোয়েল যখন একথা বলেছেন, তখন ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমার বন্ধু। তিনি যথেষ্ট স্মার্ট। ভারতও যথেষ্ট স্মার্ট। যখন তিনি মার্কিন সফরে এসেছিলেন তখন আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। আলোচনা চলছে দুই দেশের। তবে আমার মনে হচ্ছে, একটা কোনও সমাধানসূত্র পাওয়া যাবে। সমস্যা মিটবে। একইসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, আমাদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২ এপ্রিল থেকে বলবৎ করা শুল্ক সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত অনড় থাকছে। দেখা যাক আলোচনায় কী হয়।
ভারতের শিল্পবাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রেও আভাস পাওয়া গিয়েছে আমেরিকার ট্যাক্স আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ভারত সম্ভবত আমেরিকা থেকে ভারতে আসা একঝাঁক পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেবে। ৫৫টি মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক কমতে অথবা মকুব করা হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে। ভারতের উপর আমেরিকা সবথেকে বেশি যে ধাক্কা দিতে চলেছে, সেটি হল অটোমোবাইল উপকরণ ও যন্ত্রাংশ সংক্রান্ত আমদানি শুল্ক। ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হলে শুধু এই সেক্টরেই ৭০০ কোটি ডলার লোকসান হবে। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেছেন, এই আমদানি শুল্ক ভারতের উপর চাপানো হলে ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে ভারতের অটোমোবাইল রপ্তানি সেক্টর ধ্বংস হয়ে যাবে।
প্রশ্ন হল, ভারত কি নরম হতে চলেছে? আমেরিকার পণ্যের উপর আরোপ করা ভারতীয় শুল্ক কমানো হলে স্বাভাবিকভাবে আমেরিকার শুল্কও কমে যাবে অথবা মকুব হবে। কারণ ট্রাম্প নীতি নিয়েছেন, ভারত যে হারে শুল্ক নেবে, আমেরিকা ঠিক সেই একই হারে শুল্ক চাপাবে।