


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরের বনেদি ব্যবসায়ী একেন্দ্রনাথ দাসের পরিবারের শেষ সদস্যও মারা গেলেন। রহস্যজনকভাবেই মৃতদেহ পাওয়া গেল একেন্দ্রনাথের মেয়ে শর্মিষ্ঠা দাসের (৪৩)। বুধবার দুপুরে চন্দননগরের বৈদ্যপোঁতার বাড়ি থেকে শর্মিষ্ঠাদেবীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। গত জুন মাসে একদা বনেদি দাস পরিবারের কথা আচমকা চর্চায় এসেছিল। অর্থ সংকটের কারণে সপরিবারে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বৃদ্ধ একেন্দ্রনাথ, তাঁর স্ত্রী সুনীতা এবং মেয়ে শর্মিষ্ঠা। সে যাত্রায় শর্মিষ্ঠা বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর গভীর মানসিক অবসাদ সকলের নজরে এসেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই ঘটনার পর শর্মিষ্ঠাদেবী নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিলেন। বৈদ্যপোঁতার বাড়ির বাইরে কার্যত বের হতেন না। এদিন সেখান থেকেই তাঁর পচাগলা মৃতদেহ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন পুরসভার কর্মীরা কোনও কাজে বৈদ্যপোঁতার দাস বাড়ির কাছে এসেছিলেন। তখন তাঁরা পচা গন্ধ পান। তারপর স্থানীয় লোকজন ভাঙা জানালা দিয়ে শর্মিষ্ঠাদেবীকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলার শুভজিৎ সাউ ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। চন্দননগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে, কয়েকদিন আগেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। শুভজিৎবাবু বলেন, গত জুন মাসে ওই পরিবারের সকলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন অভাবের কারণে আত্মহত্যার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় প্রায় ৯০ বছর বয়সি একেন্দ্রবাবু, অশীতিপর স্ত্রী সুনীতাদেবী মারা যান। শর্মিষ্ঠাদেবী বেঁচে গেলেও অবসাদ গ্রাস করেছিল তাঁকে। তিনিই পারিবারিক সংকটের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনেছি, আত্মীয়দের সঙ্গে তাঁদের বিশেষ যোগাযোগ ছিল না।
বৈদ্যাপোঁতা মোড়ের উপর এক প্রাচীন বনেদি বাড়িতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন একেন্দ্রবাবু। শর্মিষ্ঠাদেবীর বিয়ে হলেও তিনি বহু বছর ধরেই স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। এক সময় একেন্দ্রবাবুর ধানবাদে কোলিয়ারির ফলাও ব্যবসা ছিল। তিনি চন্দননগরে একটি প্রিন্টিং প্রেসও খুলেছিলেন। বহু বছর আগেই সেসব পাট চুকে গিয়েছিল।
ফলে, আর্থিক সংকটে ভুগছিল পরিবারটি। গত ৬ জুন শর্মিষ্ঠাদেবী প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে আচমকা জানান যে, তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে সৎকার করতে হবে। তখনই হইচই শুরু হয়। স্থানীয়রা দাসবাড়িতে ঢুকে একেন্দ্রবাবুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। শর্মিষ্ঠাদেবীও অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন। সেই সময় তিনিই জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা সকলে মিলে ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন। ওই সময়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একেন্দ্রবাবু মারা যান। নিজস্ব চিত্র