


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ভুল বা ভুয়ো নথির ভিত্তিতে আধার কার্ডে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে? সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ দেবে আধার কর্তৃপক্ষ (ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা ইউআইডিএআই)। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট আধার গ্রাহক বা তার অভিভাবকের নামে এফআইআর করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় আধার কর্তৃপক্ষ এমনটাই জানিয়েছে।
ইউআইডিএআই’র বক্তব্য, সাধারণত তিনটি কারণে জন্মতারিখ আপডেট বা বদলানোর দরকার হয়। প্রথমত, যদি জন্মতারিখ স্পষ্ট করে আধারে লেখা না থাকে (কখনও শুধু বছরের উল্লেখ থাকে, তারিখ নয়) বা সেই সংক্রান্ত নথি আধার কর্তৃপক্ষের ডেটাবেসে না থাকে। দ্বিতীয়ত, যদি আধার গ্রাহক ভুল জন্মতারিখ দিয়ে থাকেন বা অপারেটর তা ভুলভাবে নথিভুক্ত করেন। তৃতীয়ত, যদি কেউ জন্মতারিখের জন্য ভুয়ো নথি পেশ করেন এবং পরবর্তীকালে সঠিক নথি দিয়ে তা সংশোধন করাতে চান।
নয়া নিয়মে বলা হয়েছে, সদ্যোজাত থেকে ১৮ বছর বয়সি ভারতীয় নাগরিকের আধারের জন্য বার্থ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। যদি ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের কোনও ব্যক্তি আগে বার্থ সার্টিফিকেট জমা করে থাকেন এবং সেখানে জন্ম তারিখ ভুল থাকে, তাহলে তিনি সংশোধিত বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েই আধার ‘আপডেট’ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে সার্টিফিকেটের বার্থ রেজিস্ট্রেশন নম্বর অপরিবর্তিত থাকতে হবে। যদি কোনও ব্যক্তি আগে বার্থ সার্টিফিকেটের পরিবর্তে অন্য কোনও নথি (পাসপোর্ট বা মার্কশিট) জমা করে থাকেন এবং সেখানে জন্ম তারিখ ভুল থাকে, তাহলেও সংশোধিত নথি পেশ করে তারিখ বদল করা যাবে।
আধার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ভুল বা ভুয়ো নথি দিয়ে নিজের বা সন্তানের আধার কার্ড করালে পরবর্তী সময়ে সঠিক নথি দিয়ে জন্ম তারিখ বদলানোর সুযোগ মিলবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথমেই আধার কার্ডটি নিষ্ক্রিয় করা হবে। যতদিন পর্যন্ত জন্ম তারিখ সংক্রান্ত নথি যাচাই না হচ্ছে, ততদিন আধার সক্রিয় হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি হলফনামা জমা করতে হবে। যেহেতু আধার গ্রাহক আগে প্রতারণা করেছেন বলে চিহ্নিত হলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হতে পারে।
আধার কর্তারা আরও জানাচ্ছেন, বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, সদ্যোজাত থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কোনও শিশুর আধার কার্ড হয়েছে এবং পরবর্তীকালে জন্ম তারিখ বদলানো হচ্ছে। কিন্তু নতুন যে জন্ম তারিখ দেওয়া হচ্ছে, সেই অনুযায়ী শিশুটির বয়স প্রথমবার আধার এনরোলমেন্টের সময়েই পাঁচ বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে আধার আপডেটের সময়ও একই ঘটনা ঘটে। এসব ক্ষেত্রে এবার আধার গ্রাহক বা তাঁর আত্মীয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। হতে পারে এফআইআরও। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্ম তারিখ বদলানোর আর্জি বাতিল করে আধারটি নিষ্ক্রিয় করা হবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা সততার সঙ্গে জন্ম তারিখ বদলাতে চাইছেন, তাঁরা কোনও বিপদে পড়বেন না তো? নথি যাচাইকরণের যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বা সংশ্লিষ্ট কর্মীর ভুল হয়ে থাকলে তার দায় সাধারণ মানুষ কেন নেবে?