


দূর্বাদল চন্দ্র, কোটশিলা: তিনি হিন্দুত্বের পোস্টার বয়। কিন্তু, ভোট ময়দানে নেমে বাংলার ইতিহাস আর মনীষীদের পরিচয়টাও গুলিয়ে ফেললেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ! সোমবার পুরুলিয়ার কোটশিলার বামনিয়া ডাকবাংলো ময়দানে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় যোগী আদিত্যনাথের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। নেতাজির রক্তদান ও স্বাধীনতার কালজয়ী আহ্বানকে স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি বলে দাবি করে খোদ বিজেপির হিন্দুত্ববাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথ এখন চরম বিড়ম্বনায়।
কোটশিলায় এদিন সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায়। কিন্তু, কাঠফাটা রোদে জনতাকে অপেক্ষায় রেখে যোগী যখন প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর মঞ্চে ওঠেন, তখন পারদ ৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। বক্তব্যের শুরুতে বাংলার মনীষীদের স্মরণ করতে গিয়েই তিনি এক ঐতিহাসিক ভুল করে বসেন। তিনি বলেন, ‘স্বামীজি বলেছিলেন তোমরা আমায় রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।’ মুহূর্তের মধ্যে সভাস্থলে গুঞ্জন শুরু হয়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে পরে তিনি সংশোধন করে একে নেতাজির উক্তি বলে দাবি করলেও ততক্ষণে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিন যোগীর সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপির উন্মাদনা থাকলেও অব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ৯টা থেকে মানুষ রোদে পুড়ে অপেক্ষা করলেও নেতার দেখা মেলেনি। মাথার উপর সামান্য শেড থাকলেও হাজার হাজার মানুষের জন্য তা ছিল অপ্রতুল। ফলে যোগী পৌঁছানোর আগেই সভার একটা বড় অংশ ফাঁকা হয়ে যায়। এমনকি, তিনি বক্তব্য রাখা শুরু করার পরেও অনেককে সভাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়। সভা শুনতে আসা ফনীভূষণ মাহাত, আনন্দ পরামানিক বলেন, ‘হিন্দিতে কী বললেন বুঝতেই পারলাম না। সেই সকাল থেকে ৯টা থেকে এসে না খেয়ে বসে আছি।’ আবার কেউ দেরিতে আসার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ির পথ ধরেন।
যোগীর এই ভুলকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের জেলা যুব সহ-সভাপতি বিকাশ মাহাত তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিশ্ব দরবারে হিন্দুত্ববাদের ঐতিহ্য তুলে ধরা স্বামী বিবেকান্দকে উনি অপমানিত করেছেন। সেই সঙ্গে দেশপ্রেমের জিগির তোলা বিজেপি প্রকৃত দেশনায়ক নেতাজিকেও অপমানিত করলেন। আসলে ভোট এলেই পরিযায়ী পাখির মতো বিজেপি নেতারা বাংলায় এসে দানা খেতে হাজির হয়। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পরম্পরা সম্পর্কে কিছুই জানে না। এরা হচ্ছে ভেকধারী হিন্দু। মানুষ এদের বুঝে গিয়েছে। বাংলায় বিজেপির কোনো অস্তিত্ব নেই। এদিনের জনসভায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজেপিকে আর কেউ চাইছে না।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, বহিরাগত তকমা ঘোচাতে গিয়ে বাঙালি মনীষীদের নাম নিতে গিয়ে বারবার মুখ পুড়ছে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। এর আগে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান নিয়ে ভুল তথ্যের পর বিজেপির এই তালিকায় এবার যুক্ত হল বিবেকানন্দ-নেতাজির উক্তি বিভ্রাট। বাঙালি অস্মিতায় এই আঘাত আসন্ন নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের জন্য ব্যুমেরাং হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।