


নয়াদিল্লি: ব্যাট-গ্লাভস-প্যাড তুলে রাখলেও ক্রিকেটকে বিদায় জানাননি যুবরাজ সিং। ভারতের দুই তরুণ তুর্কি, শুভমান গিল ও অভিষেক শর্মার জীবনে তাঁর অবদান বিশাল। উভয়েরই মেন্টর যুবি। আর সেই ভূমিকায় তিনি রীতিমতো কড়া। কখনও কখনও তো শৃঙ্খলার পাঠ দিতে গিয়ে দরজার তালাও বন্ধ করে দিয়েছেন অভিষেকের। অন্যথায় লেট নাইট পার্টি আর বান্ধবীর চক্করে ক্রিকেট কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতেই পারত।
যুবরাজের বাবা যোগরাজ সিং জানিয়েছেন সেই দিনগুলোর কথা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘অভিষেকের জীবনযাপন ছিল বেশ রঙিন। ওকে বশে আনতে হিমসিম খেত বাবা। বাধ্য হয়েই যুবিকে কড়া হতে হয়েছিল। ওর বাবাকে বলেছিল, অভিষেকের ঘরের দরজায় তালা আটকাতে। আমি শুনেছি, অভিষেককে রীতিমতো ধমক দিয়ে যুবি বলছে, ‘‘রাত ৯টা বেজে গিয়েছে। এবার ঘুমাতে যাও। বুঝতে পারছ কথাটা? না হলে আমি আসছি।’’ কখনও চেঁচাতে শুনেছি, ‘‘এত রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলে?’’ অভিষেকের থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে তবে শুতে যেত যুবি। ভোর পাঁচটায় তুলে দেওয়া হতো অভিষেককে।’
শুভমানের ক্ষেত্রেও যুবি এমনই করতেন। যোগরাজ বলেছেন, ‘গিলও ছাড় পেত না। একই দশা হতো ওরও। গিল, অভিষেকরা এজন্যই তারকা হয়েছে। যুবিকে না পেলে ওরা হয়তো হারিয়েই যেত। আমাদের দেশে অনেক প্রতিভাই তো সঠিক গাইড করার লোকের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।’ পাঞ্জাব ক্রিকেট সংস্থার (পিসিএ) একটা প্রতিযোগিতায় অভিষেককে প্রথমবার দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলেন যুবি। সেই সম্পর্কে যোগরাজ বলেছেন, ‘যুবি যখন ওর পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান চাইল তখন পিসিএ জানিয়েছিল, ও নাকি বোলার। কিন্তু রেকর্ড দেখাল ওর মধ্যেই ২৪টা সেঞ্চুরি করে ফেলেছে অভিষেক। এটা দেখেই রেগে উঠেছিল যুবি। কেন মিথ্যা বলা হল, জানতে চেয়েছিল। আমি বুঝিয়েছিলাম, কেউ কেউ হিংসায় ওর কেরিয়ার শেষ করতে চাইছে।’ যুবির মা শবনমও একই সুরে কথা গলা মিলিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ওদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক যুবির। প্রতিটা খেলা দেখার পর সন্ধ্যায় ফোন করে কোথায় ভুল তা বলত ও। যুবিকে মারাত্মক ভয় পেত।’ স্বয়ং যুবিও একবার এই দু’জন সম্পর্কে নিজের মনোভাবের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমি যখন খেলতাম তখন মা টেনশনে থাকত ব্যাটিংয়ের সময়। এখন আমিও নার্ভাস হয়ে পড়ি যখন ওরা দু’জনে ব্যাট করে। আসলে ওদের বড় হওয়ার সময়ে ট্রেনিং থেকে শুরু করে সব ব্যাপারটা সামলেছি। সেজন্যই টেনশন হয়।’