


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলেজভিত্তিক অ্যাডমিশনে রীতিমতো বিপরীতমুখী চিত্র উঠে আসছে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে। কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি অনেকদিন আগেই শেষ হয়েছে। এবার কলেজগুলির নিজস্ব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন চলছে। তাতেই উঠে আসছে অবাক করা ছবি। কোথাও আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ১০টি। আবার কোথাও আবেদন প্রায় দেড় হাজার। তবে, আবেদনের মধ্যে কতগুলি অ্যাডমিশনে রূপান্তরিত হবে, তা নিয়ে সন্দিহান অনেক কলেজই।
দক্ষিণ কলকাতার এজেসি বোস কলেজে ১৪৭৫টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ সমীরণ মণ্ডল। এই সংখ্যায় তিনি বেশ আশাবাদী। তবে, বেশ হতাশাজনক ছবি মহেশতলা কলেজে। সেখানকার অধ্যক্ষা রুম্পা দাস জানান, তাঁদের মাত্র ১০টি আবেদন জমা পড়েছে। সার্বিকভাবেও ভর্তির হার খুব একটা ভালো নয়। বিশেষ করে জেনারেলে ছবিটা রীতিমতো করুণ। আশুতোষ কলেজে আসনের তুলনায় রেকর্ড সংখ্যক আবেদন হয়ে থাকে। অধ্যক্ষ মানস কবি বলেন, আমাদের কমার্স না থাকা সত্ত্বেও ন’শোর বেশি আবেদন জমা পড়েছে এই ধাপে। তবে, শেষ পর্যন্ত ভর্তির সংখ্যা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছি না। নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, বুধবার পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে। রবিবার পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা প্রায় দেড়শো। সদ্য প্রাক্তন এক অধ্যক্ষ বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই আবেদনগুলি ছাত্রনেতাদের কলকাঠিতে জমা পড়ে থাকে। তাঁরা অনেক সময়ই কলেজে আসা ছাত্র-অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে আসল মার্কশিট জমা নিয়ে রাখে। কিছু টাকাও আগাম নিয়ে নেয়। আশ্বাস দেয়, যেভাবেই হোক, অ্যাডমিশন করিয়ে দেবে। এই পড়ুয়ারা কেন্দ্রীয় পোর্টালে আবেদন করেন না। কলেজভিত্তিক অ্যাডমিশন শুরু হলে তাঁরা আবেদন করেন। গত বছরও এই ট্রেন্ড লক্ষ করা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গোটা রাজ্যে সাড়ে ন’লক্ষেরও বেশি স্নাতকের আসন রয়েছে। অথচ, পড়ুয়া রয়েছেন অর্ধেকেরও কম। তাই স্বাভাবিকভাবে কলেজগুলিতে গড়ে অর্ধেক আসন ফাঁকাই থাকার কথা। তবে, ভালো কলেজে আসন কম ফাঁকা থাকে। এছাড়াও চাহিদাসম্পন্ন বিষয় থাকলে সেই কলেজে ভর্তির হার ভালো হয়। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, কলেজের আসনগুলি সঠিকভাবে বিন্যাসের সময় এবার এসেছে। নাহলে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ, লোকবল এবং পরিকাঠামো অপচয়ের কোনও অর্থ হয় না। উচ্চশিক্ষা দপ্তরও একাধিকবার এই আশ্বাস দিয়েছে। তবে, এই ব্যবস্থার আশু রূপায়ণ কঠিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার সায়েন্স, এআই, মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তিভিত্তিক কোর্সের সাধারণ ডিগ্রি কলেজেও চাহিদা বাড়ছে। তবে, সেগুলির জন্য পরিকাঠামো এবং যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন। সেটি রীতিমতো সময়সাপেক্ষ।