


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিপা ভাইরাস আক্রান্ত দু’জন নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন ১৭৭ জন। তাঁদের প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। স্বস্তির খবর, তাঁদের প্রত্যেকের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’। ফলে দু’জন নার্স ছাড়া নতুন করে আর কেউ এই বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত নন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এবং স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এ তথ্যই জানা গিয়েছে।
বারাসতের দু’জন নার্স বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। আক্রান্তদের একজন পুরুষ। অন্যজন মহিলা। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বেশ কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলেন ওই মহিলা। প্রথমে যান নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমানায় এক আত্মীয়ের বাড়ি বিয়ের অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারমধ্যেই শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন পরীক্ষা দিতে। তারপর যান কাটোয়ায়, বাড়িতে। এরপর মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে স্থানান্তরিত করা হয় বারাসত হাসপাতালে। সে হাসপাতালই তাঁর কর্মস্থল। ঘটনাচক্রে ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর ওই তরুণী নার্সিং কর্মী এবং পরবর্তীকালে আক্রান্ত পুরুষ নার্সিং কর্মী একসঙ্গে ডিউটি করেন। তারপর পুরুষ নার্সও আাক্রান্ত হন নিপায়। বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের সংস্পর্শে আসেন ১৭৩ মানুষ। তাঁদের চিহ্নিত করা হয়। তারপর ‘কম’ এবং ‘বেশি’ ঝুঁকির, এইভাবে চিহ্নিত করে প্রত্যেকেরই নিপা পরীক্ষা করা হয়। স্বস্তির বিষয়, প্রত্যেকেরই রিপোর্ট আসে ‘নেগেটিভ’। তাঁদের মধ্যে বারাসতের হাসপাতালের ৭৮ জন এসেছিলেন সংস্পর্শে। এরপর আরও চারজনের নমুনা পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ থেকে। তাদের নমুনাও ‘নেগেটিভ’। অন্যদিকে আক্রান্ত পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে। জানা গিয়েছে, শনিবার তিনি দাঁড়াতে পেরেছেন। হাঁটানোও সম্ভব হয়েছে। অ্যান্টিভাইরাস কোর্স শেষ হওয়ার পর ফের নিপা পরীক্ষা হবে তাঁর। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তখন আইসোলেশন থেকে বের করা হবে। আক্রান্ত তরুণী নার্সের শারীরিক অবস্থার যৎসামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনও ভেন্টিলেশনে আছেন। রক্তচাপ ঠিক রাখার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, নিপা সংক্রমণের কারণে তাঁর মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়েছে। তাই ভেন্টিলেশন থেকে বের করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগতেও পারে। স্বাস্থ্যমহলের একাংশের বক্তব্য, এবার নিপা পর্বে সংক্রমণের উৎস নিয়ে ধন্দ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষজ্ঞরা তা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।