


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মুম্বই পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফোন। জানানো হয়, তাঁর নামে তোলা সিমকার্ড থেকে বেআইনি কাজকর্ম করা হয়েছে। এই ভয় দেখিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছিল বাগুইআটির এক বৃদ্ধকে। তাঁকে সুপ্রিমকোর্টের ভুয়ো নথিও দেখানো হয়। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা যাচাই করার জন্য তাঁকে ট্রান্সফার করতে বলা হয়। তিনি ৯৯ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিয়ে বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই ঘটনায় বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। রবিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সৌম্য দাস ও প্রদীপ মণ্ডল ওরফে বাবাই। সৌম্যর বাড়ি ঠাকুরপুকুরের ডায়মন্ডহারবার রোডে। প্রদীপের বাড়ি রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির প্রতারিত বৃদ্ধের বয়স ৭৪ বছর। গত ১৬ ডিসেম্বর তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। বৃদ্ধ পুলিশকে জানান, প্রতারকরা মুম্বই পুলিশের অফিসার পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করে। তারপর ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে তাঁকে অবৈধভাবে বাড়িতে আটকেও রাখা হয়। ভিডিয়ো কলেও তাঁর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলে প্রতারকরা। কী অপরাধ? ভুয়ো অফিসাররা তাঁকে জানায়, তাঁর আধারকার্ড দিয়ে একটি সিমকার্ড তোলা হয়েছে। সেই সিমকার্ড অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তারের ভয় দেখানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের লোগো যুক্ত জাল নথি, আরবিআইয়ের ভুয়া নোটিসও পাঠানো হয়। ওইসব দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রতারকরা তাঁকে প্রস্তাব দেয়, তাঁর সঞ্চিত টাকা আরবিআই ভেরিফিকেশন করা হবে। তাতে যদি গলদ না থাকে, তাহলে ছেড়ে দেওয়া হবে। টাকাও ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি ৯৯ লক্ষ টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। পরে বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোনো অ্যারেস্ট নেই। তাই এই ধরনের ফোন এলে সতর্ক থাকুন।