


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্যসাথী স্বাস্থ্যপ্রকল্পের মাধ্যমে রোজ উপকৃত হচ্ছেন ৭ হাজার মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বপ্নের প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন ডায়ালিসিসের রোগীরা। দিনে ২২০০ বা বছরে ৮ লক্ষ বারেরও বেশি ডায়ালিসিস হচ্ছে রাজ্য সরকারের এই ৫ লাখি বিমা প্রকল্পে। উপকৃত হচ্ছেন হাজার হাজার কিডনির অসুখের রোগী। শুধু ডায়ালিসিসখাতেই স্বাস্থ্যসাথীর খরচ ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
সুপারহিট এই অ্যাশিওরেন্স প্রকল্পের (যে প্রকল্পে খোদ সরকার সরাসরি প্রকল্পভুক্ত হাসপাতালের টাকার মেটায়) খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। তার অন্যতম হল, কোন কোন অসুখের রোগী এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। তাতে দেখা যাচ্ছে, সর্বাগ্রেই রয়েছে ডায়ালিসিস। নথিভুক্ত প্রাইভেট হাসপাতালকে প্রতি সিটিং ডায়ালিসিসের জন্য দেওয়া হয় ১২০০ টাকা। রোগভোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডায়ালিসিস করায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে। বিশিষ্ট নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ মনীশ জৈন বলেন, বাঁকুড়ার আমার বহু রোগী আছেন। গরিব, নিম্নবিত্ত মানুষের প্রচুর উপকারে আসছে এই প্রকল্প। স্বাস্থ্যসাথী চালু হওয়ার আগে স্রেফ টাকার অভাবে অসংখ্য রোগী ডায়ালিসিস করাতে না পেরে মারা যেতেন। সেখানে এখন স্বাস্থ্যসাথী এসে যাওয়ার আমার বাঁকুড়ার বহু রোগী ডায়ালিসিস করিয়ে যথেষ্ট সুস্থ আছেন।
সংখ্যার দিক থেকে ডায়ালিসিসের পরই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন ক্যানসার রোগীরা। কেমোথেরাপি, রেডিয়োথেরাপি, সার্জারি ছাড়াও স্বাস্থ্যসাথী নথিভুক্ত ক্যানসার রোগীরা বিনামূল্যে ওষুধও পাচ্ছেন। ডায়ালিসিস, ক্যানসারের পরই স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে যে-সমস্যায় রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন, তা হল হার্টের অসুখ। বাইপাস সার্জারি হোক বা ভালভ প্রতিস্থাপন অথবা অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম, অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি—অসংখ্য কার্ডিয়োলজি রোগী উপকার পাচ্ছেন এই বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে। দৈনিক সম্পূর্ণ নিরখচায় হার্টের যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার আর্থিক মূল্য এক থেকে দেড় কোটি টাকা!