


সংবাদদাতা, মালদহ: স্নাতক স্তরের পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পৃষ্ঠা সম্বলিত উত্তরপত্র বাড়ন্ত! ফলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতকস্তরের পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষার্থীদের অনেকেই ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পরীক্ষা ফি জমা দেওয়ার পরেও ২৪ পাতার উত্তরপত্র পাননি অনেকেই। পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে আটপাতার উত্তরপত্র। ফলে একাধিক পৃষ্ঠা নিয়ে তাতে বারবার লিখতে হয়েছে রোল নম্বর সহ অন্যান্য তথ্য। ২৪ পাতার উত্তরপত্রের ভাঁড়ার বাড়ন্ত কিনা, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক বিভাগও। উত্তর মেলেনি কর্তৃপক্ষের তরফেও।
বুধবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতে স্নাতকস্তরের পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশের বক্তব্য, আমরা উত্তর লেখার জন্য সব সময় ২৪ পৃষ্ঠার মোটা খাতা পাই। তাতে বারবার আলাদা করে উত্তরপত্র নেওয়ার প্রয়োজন সাধারণত পড়ে না। ওই মোটা উত্তরপত্রের উপর রোল নম্বর সহ অন্যান্য তথ্য একবার উল্লেখ করে দিলেই একটানা উত্তর লেখা যায়। কিন্তু পঞ্চম সেমেস্টারে আমাদের অনেকেই আটপাতার উত্তরপত্র পেয়েছি। স্নাতকস্তরের জন্য এই উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। আমরা তো পরীক্ষার নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছি। তারপরেও কম পৃষ্ঠার উত্তরপত্র কেন দেওয়া হবে!
আগামী ৭ মার্চ স্নাতকস্তরের তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বলে কয়েকটি কলেজ থেকে জানা গিয়েছে। পঞ্চম সেমেস্টারের এই অভিজ্ঞতা জেনে তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের আশঙ্কা, তাঁদেরও একইভাবে ভুগতে হতে পারে। মালদহ কলেজের পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা ঘোষ, নাজিম মোল্লা প্রমুখ বলেন, পরীক্ষার ফি ঠিকই দিয়েছি, কিন্তু উত্তরপত্রে পৃষ্ঠা কমে গিয়েছে। এতে পরীক্ষার সময় যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে। এমনটা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কেন কম পৃষ্ঠার উত্তরপত্র দেওয়া হল, তা আমরা জানি না।
এই বিষয়ে মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ মানস বৈদ্য বলেন, কিছু পরীক্ষার্থী ৮ পাতার উত্তরপত্র পেয়েছেন। আশাকরি তৃতীয় সেমেস্টারের আগে আগের মতোই উত্তরপত্র এসে যাবে।
মানিকচক কলেজের অধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর কথায়, আমাদের কাছে আগের সেমেস্টারের ২৪ পাতার উত্তরপত্র ছিল। তা দিয়ে কাজ চালিয়েছি। কিন্তু পরের সেমিস্টার থেকে আমাদের ৮ পাতার উত্তরপত্র ব্যবহার করতে হবে, যদি না বিশ্ববিদ্যালয় জোগান দেয়।
জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ভোগান্তির খবর আমাদের কাছে এসেছে। আমাদের কাছে এলে তাঁদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইব। পরীক্ষার্থীদের সমস্যা মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে খাতা সরবরাহ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক বিশ্বরূপ সরকার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়েছেন। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ২৪ পাতার উত্তরপত্র ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা স্টক খতিয়ে দেখেছি। আগামী সেমেস্টারের আগে নির্ধারিত উত্তরপত্র ছাত্রছাত্রীরা পাবেন। তবে, এই বিষয় নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।