


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলিতে কোন জিনিসটি দুর্লভ? দশ জনকে প্রশ্ন করলে আট-ন’জনই উত্তর দেবেন—বেড! একে ওকে ধরো, দাদা-কাকা, পরিচিতদের ফোন কর, নেতা-মন্ত্রীদের কাছে কাকুতি মিনতি কর—তবেই না মিলবে মুমূর্ষু প্রিয়জনের জন্য একটি বেড! এ প্রবণতা পালটাতে ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেড ব্যাংক করার কথা ঘোষণা করেন। উদ্দেশ্য একটাই—একজন রোগীকেও যাতে এ হাসপাতাল সে হাসপাতাল লাট্টুর মতো চরকিপাক না খেতে হয়। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ এবং রাজ্যস্থিত বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অধীন হাসপাতালের বেডের একাংশও জুড়বে বেড ব্যাংকে। এমনটাই জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই মতো গত এক মাস ধরে লাগাতার কলকাতা ও জেলাগুলির প্রাইভেট হাসপাতাল ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলির সঙ্গে বৈঠক চলে। মিলেছে তার ফলও। বিনা পয়সায় সরকারের থেকে জমি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া হাসপাতালগুলি থেকে এই প্রথম আইন ও চুক্তি মোতাবেক ১০ শতাংশ বেড পেল রাজ্য। বেডগুলিতে স্বাস্থ্যদপ্তরের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রোগী ভরতি করাবে সরকার। চিকিৎসা মিলবে নিখরচায়। এভাবে ৬১টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে ২৪০০ ফ্রি বেড পাচ্ছে রাজ্য।
রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের আওতাধীন সরকারি বেডের সংখ্যা ৯৭ হাজার। ফলে আপাতত সরকারি হাসপাতালমুখী রাজ্যবাসীর জন্য বেড ব্যাংকের মোট বেড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ১ লক্ষ! যদিও তা চাহিদার তুলনায় মোটেও যথেষ্ট নয়। এমনই জানাচ্ছেন আধিকারিকদের একাংশ। দপ্তরের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, পোর্ট, রেল, ইএসআইসিসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রকের হাসপাতালের বেডগুলির একাংশ যাতে বেড ব্যাংকে যুক্ত হয়, তা নিয়েও কথাবার্তা শুরু হয়েছে।