


• এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য সংকটের মুখে রয়েছে ভারত! দেশে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ ‘অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি’ বা উদর সম্বন্ধীয় স্থূলত্বের শিকার। বিষয়টি স্বাস্থ্যে এক ধরনের ‘জরুরি অবস্থা’র মতোই পরিস্থিতি।
সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন অব মেটাবলিক অ্যান্ড ওবেসিটি ক্লিনিশিয়ানস অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজিস্টস আয়োজিত আড়াই দিনের আন্তর্জাতিক ওবেসিটি-মেটাবলিক কনফারেন্স ‘এমোকন ২০২৬’-এ উপস্থিত চিকিৎসকরা এমনটাই জানালেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিজি হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন প্রধান ডাঃ শুভঙ্কর চৌধুরি। তিনি জানান, স্থূলতা বা মেদবাহুল্যের সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এমনকি বেশ কিছু ক্যান্সারেরও গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
সতর্ক করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয়দের শারীরিক গঠন অনুযায়ী বিএমআই (বিএমআই) ২৫-এর উপরে গেলেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আরও জানান, কেবল ওজন নয়, পেটের মেদ বা ‘ভিসারাল ফ্যাট’ পরিমাপ করা জরুরি।
পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ৯০ সেমি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৮০ সেমি-র বেশি হওয়া একাধিক অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সদস্য ডাঃ সুপ্রতীক ভট্টাচার্য উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে কোটি কোটি শিশু ও কিশোর স্থূলতার শিকার। স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধি এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর মূল কারণ। ডাঃ ভট্টাচার্য আরও জানান, মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
চিকিত্সকরা বলছেন, ওজন কমাতে রোজকার ডায়েটে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে মাছ, ডিম, ডাল, পনিরের মতো প্রোটিনপ্রধান খাদ্য এবং ফাইবারযুক্ত শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে। তবে তারপরেও কোনওভাবে ওজন না কমলে ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এই ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না।
ওষুধ খেলেও খাদ্যে সংযম বজায় রাখা ও শরীরচর্চার অভ্যেসও সমানতালে চালিয়ে যেতে হবে।