


সংবাদদাতা, দিনহাটা: রাতভর মাটি খুঁড়ে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সময় গাঁজার খাজানা খুঁজে পেল পুলিস। ৩৭৫ কেজি গাঁজা আট ফুট গর্ত খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গাঁজার গুণমান যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য রঙের বড় ড্রামে করে সেগুলি সিল করা হয়েছিল। ঘরের মধ্যে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল গাঁজা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় বাড়ির মালিক খোকন বর্মনকে।
রবিবার মধ্যরাতে গোপন সূত্রে দিনহাটা থানায় খবর আসে গোসানিমারিতে একটি বাড়ির ভিতর গাঁজা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে এলাকায় হাজির হয় পুলিসের টিম। গোসানিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চকিয়ারছড়া গ্রামে খোকন বর্মনের বাড়িতে হাজির হন পুলিস অফিসাররা। থানার আইসি জয়দীপ মোদকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে। এরপর গৃহকর্তাকে বাড়ির বাইরে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়। তার কথায় অসঙ্গতি মিলতেই ঘরে ঢুকে চলে জেরা। পুলিসি জেরায় গাঁজা লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে নেয় অভিযুক্ত।
গৃহকর্তা নির্দিষ্ট ঘর দেখিয়ে দিতেই শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। মেঝের উপর এলোমেলো ভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল পুরনো জামা কাপড় সহ আবর্জনা। ওসব সরিয়ে খনন করতেই বেরিয়ে আসে বাঁশের চাটাই। সেগুলি সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিসের। কার্যত কুবেরের ধন লুকিয়ে রাখা হয়েছে যেন। রঙের বড় বড় ড্রামে লুকিয়ে রাখা ছিল বস্তা ভর্তি গাঁজা। গাঁজার গুণমান যাতে নষ্ট না হয় তারজন্য সুন্দর করে করা হয়েছে সিল। সেই সিল ভেঙে গাঁজা বের করে ওজন করা হয়। ওজন দাঁড়ায় ৩৭৫ কেজি। ঘটনায় বাড়ির মালিক খোকন বর্মনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, এলাকায় গাঁজা চাষের অন্যতম ইজারাদার ধৃত ব্যক্তি। কয়েক বিঘা জমিতে গাঁজা চাষের ঠিকা নেয় সে। গাঁজার পাতা পক্ক হওয়ার পর সেগুলি শুকিয়ে বস্তা ভর্তি করে ড্রামের ভিতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আট ফুট গভীর ও চার ফুট চওড়া গর্তে খুঁড়ে ওসব রেখেছিল ধৃত ব্যক্তি। সকলের চোখে ফাঁকি দিতে মাটির উপরে ফেলে রাখা হয়েছিল বাড়ির ব্যবহার করা পুরনো জিনিসপত্র। টানা ৮ ঘণ্টা মাটি খোঁড়া হয়। ভোরের দিকে গাঁজার সন্ধান মেলে।
দিনহাটা থানার আইসি বলেন, ৩৭৫ কেজি গাঁজা সহ বাড়ির মালিক খোকন বর্মনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক পাচার বিরোধী আইনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। নিজস্ব চিত্র।