


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: আশঙ্কাই সত্যি হল। বিধানসভা নির্বাচনে এবার টিকিটই পেলেন না কোচবিহারের বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পাশাপাশি কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় চারজন নতুন মুখকে তুলে আনল দল। নাটাবাড়ি থেকে দল শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে প্রার্থী না করে শৈলেন বর্মাকে প্রার্থী করেছে। শৈলেনবাবু কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্য। মাথাভাঙায় সাবলু বর্মনকে দল প্রার্থী করেছে। সাবলুবাবু ওয়েবকুপার জেলা সভাপতি। পাশাপাশি মাথাভাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও তিনি। শীতলকুচিতে প্রার্থী হরিহর দাস। হরিহরবাবু পেশায় শিক্ষক। গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কোচবিহারে এসে অনন্ত মহারাজের চকচকার বড়গিলার প্রাসাদে গিয়েছিলেন, তখন হরিহর দাস পায়ে হাত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করেছিলেন। এর কিছুদিন পরেই রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান পদ পান তিনি।
অন্যদিকে, তুফানগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল এবার চমক দিয়েছে। সেখানে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশংকর পালকে প্রার্থী করেছে দল। শিবশংকর পাল তুফানগঞ্জের বাসিন্দা। নতুন মুখ হিসাবে জেলার তুফানগঞ্জ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস শিবশংকরের নাম ঘোষণা করায় স্বাভাবিকভাবে দলের অন্দরে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। এই চার নতুন মুখ বিধানসভা নির্বাচনে কীভাবে প্রচার চালান, কীভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করেন সেটাই এবারের ভোটের আগে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষের উত্থান হয়েছিল। এখান থেকে বহুবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এবারের নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ার পর রবিবাবুকে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অনেকেই আশা করেছিলেন দল হয়ত তাঁকে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করবে। তিনি নিজেও নাটাবাড়ি কেন্দ্রে প্রচার ও সংগঠনের কাজ চলিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়ল না রবির। এ প্রসঙ্গে জানার জন্য রবিবাবুকে এদিন ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মেসেজ করলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।