


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভূমিহীন চাষি বা খেতমজুরদের এবার আর্থিক সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। অন্যের জমিতে যাঁরা চাষাবাদ করে জীবনযাপন করেন, তাঁদের কাছ থেকে এব্যাপারে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভায় প্রায় ৬০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের খেতমজুররা সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মূলত, কৃষিজমি না থাকার কারণে যাঁরা ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের আওতায় নেই এবং ভাগচাষি হিসাবেও নথিভুক্ত নন, তাঁরাই এর সুবিধা পাবেন।
ভূমিহীন খেতমজুররা মূলত কৃষি ও তার আনুষাঙ্গিক কাজের উপরে নির্ভরশীল। নিজস্ব কৃষিজমি না থাকায় কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজে এঁরা যুক্ত থাকেন। কৃষি মরশুমে দৈনিক মজুরির উপর নির্ভর করেই খেতমজুররা জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের সুবিধার কথা ভেবেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এবার তাঁরাও রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
রাজ্যের চাষিদের জন্য সরকারের ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্প রয়েছে। তবে, সেক্ষেত্রে চাষিদের নিজস্ব কৃষিজমি থাকা বাঞ্ছনীয়। কৃষকবন্ধু(নতুন) প্রকল্পে রাজ্যের চাষিদের বছরে দু’টি কিস্তিতে একর প্রতি ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। তবে, এবার রাজ্য বাজেটে খেতমজুরদের সহায়তা করার জন্যেও টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। রবি ও খরিফ ফসলের মরশুমে বছরে দু’বার দু’টি কিস্তিতে ২০০০টাকা করে মোট ৪০০০টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতেই চাষিরা ক্যাম্পে ভিড় শুরু করেছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাংলার যুবসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে এই কৃষকবন্ধুর নতুন প্রকল্পে আবেদন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে। রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদ ছিল আবেদনের নিরিখে প্রথম। বুধবার এই আবেদনের সংখ্যা মোট ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। সাগরদিঘির চাষি রহমত শেখ বলেন, আমার নিজস্ব জমি নেই। অন্যদের জমি বছরে লিজ নিয়ে চাষ করি। তাই এতদিন কৃষকবন্ধু প্রকল্পে সাহায্য পাইনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জন্যও ভেবেছেন, এটা অনেক বড়ো কথা। মুর্শিদাবাদ জেলায় আমাদের মতো কয়েক লক্ষ চাষি আছেন। তাঁরা সকলেই অপরের জমিতে চাষ করেন। কিন্তু জমির কাগজপত্র না থাকায় কেউই এতদিন কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আবেদন করতে পারেননি। এই নতুন কৃষকবন্ধু প্রকল্পে সকলের সুবিধা হবে। বেলডাঙার চাষি ইলিয়াস গাজি বলেন, আমাদেরই সবথেকে বেশি আর্থিক সাহায্যের দরকার ছিল। সরকার এতদিনে ভেবেছে। তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের নিজস্ব জমি নেই। অন্যের জমিতে তিনবার চাষ করি। ফসলের ক্ষতি হলে জমির লিজের টাকা দিতে হিমশিম অবস্থা হয়। এবার বছরে দু’বারে চার হাজার টাকা পেলে সুবিধা হবে। তাই আমরা ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করে এসেছি।
তবে, অনেক চাষি নিজেরা ক্যাম্পে না গিয়ে পরিবারের লোকজনকে আবেদন করার জন্য ক্যাম্পে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু তাতে সমস্যায় পড়ছেন আধিকারিকরা। তাঁরা বলেন, প্রত্যেক চাষিকে নিজের আধার কার্ড নিয়ে ক্যাম্পে হাজির হতে হবে। চাষিরা না এলে অন্য কেউ আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।
হরিহরপাড়ায় মটরশুটির গাছ তুলে আনছেন মহিলারা। -নিজস্ব চিত্র