


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আরও বেশি সংখ্যক বিনামূল্যের ওষুধ পাওয়া যাবে সরকারি হাসপাতাল থেকে। হিমোফিলিয়া, ক্যান্সার, সুগার সহ নানা রোগের প্রায় ৫০০ ওষুধ বেড়ে গেল রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্টে (ইডিএল)। শুধু তাই নয়, ধূমপান ছাড়তে চাওয়া মানুষজনের জন্য বিকল্প নিকোটিন থেরাপির নিকোটিন গাম, নিকোটিন প্যাচও পাওয়া যাবে সরকারি হাসপাতাল থেকে।
বিভিন্ন স্তরের সরকারি হাসপাতালে কী কী ওষুধ বিনা পয়সায় পাওয়া যাবে, সেই তালিকা শেষবার রাজ্য প্রকাশ করেছিল ২০২২ সালে। তিন বছর পর ফের তা প্রকাশিত হল। নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে ক্যান্সারের বহুমূল্য ওষুধ ট্রাস্টুজুমাব এমটেনসিন। যার এক-একটি ইঞ্জেকশনের বাজারমূল্য ১০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তালিকায় ঢুকেছে হিমোফিলিয়ার দামি ওষুধ ফ্যাক্টর ৮ এক্সটেন্ডেড হাফ লাইফ। এই ওষুধের দামও বাজারে কয়েক হাজার টাকার কম নয়। ডায়াবেটিসের লিনগ্লিপটেন গোত্রের ওষুধও যুক্ত হয়েছে নয়া তালিকায়। বাজারে যার ১০টি ট্যাবলেটের দাম ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিকে ছ’টি ভাগে ভাগ করে ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ইডিএল। প্রত্যেক ধরনের হাসপাতালের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক অপরিহার্য ওষুধের তালিকা রয়েছে। যেমন প্রাথমিক স্তরে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে এতদিন ১৪৬ ধরনের ওষুধ মিলত। তা বেড়ে এখন ১৯১ হল। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছিল ২৩৩ ধরনের ওষুধ। তা বেড়ে হল ৩০৩। ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টার বা গ্রামীণ হাসপাতালে ৩৩১ ধরনের ওষুধ মিলত। নতুন তালিকা অনুযায়ী মিলবে ৪৮২ ধরনের ওষুধ। মহকুমা, সুপার স্পেশালিটি, স্টেট জেনারেল হাসপাতালর রোগীরা এতদিন ৪৬৮ ধরনের ওষুধ নিখরচায় পেতেন। এবার তা বেড়ে হল ৫৯৮। জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে নিখরচায় ওষুধের সংখ্যা ছিল ৯৯০। তা বেড়ে হল ১০২৮। সব মিলিয়ে আরও ৫০০ ধরনের ওষুধ জুড়ছে অপরিহার্য ওষুধের তালিকায়।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, আপাতদৃষ্টিতে অনেক ধরনের ওষুধ বাড়ল বলে মনে হলেও বাস্তব তা নয়। কারণ, আগের তালিকায় ওষুধের মূল উপাদানের সংখ্যা উল্লেখ করা ছিল না। এইবার সেই উপাদানগুলির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই উপাদানের একাধিক ওষুধের নাম জুড়েছে ইডিএল-এ।