


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যবসার বহর বাড়াতে প্রয়োজন আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তিগত উন্নতি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় হয় না! কারণ, মূলধনের অভাব। স্রেফ এই কারণে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারছে না ভারতের অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও ছোট সংস্থা। তার জন্য যে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তাও নজরে রয়েছে তাদের। কিন্তু কিছু করার নেই! একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বরাবর দাবি, ছোট শিল্পের পাশে দাঁড়াতে তারা একাধিক পদক্ষেপ করেছে। এমনকী পুঁজির যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে সেসব প্রতিশ্রুতি যে কোনও কাজে আসেনি, তারই প্রমাণ দিচ্ছে সমীক্ষার তথ্য।
একটি আন্তর্জাতিক ডেলিভারি সংস্থার করা সমীক্ষা বলছে, ৬৮.৮ শতাংশ সংস্থা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন না করার কারণে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে তাদের প্রতি বছর সর্বাধিক এক লক্ষ টাকা লোকসান হয়, যা তারা কাটিয়ে উঠতে পারত। ২৫.৮ শতাংশ সংস্থার দাবি, তাদের ক্ষেত্রে লোকসান হচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। বাকিদের ক্ষেত্রে লোকসান এক কোটি টাকা পর্যন্ত। সমীক্ষাটি করা হয়েছে এমন সংস্থার উপর, যাদের সিংহভাগেরই পুঁজির বহর কম। কারণ, যে সংস্থাগুলি সমীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের ৭৩ শতাংশের বার্ষিক ব্যবসা এক কোটি টাকার কম।
প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটা বড় অংশ স্বয়ংক্রিয়তা। অর্থাৎ মেশিনের ব্যবহার বাড়ানো। সেই কাজে কেন পিছিয়ে আসছে সংস্থাগুলি? ৪৮ শতাংশ সংস্থার দাবি, প্রযুক্তি আনার যে খরচ, তা তাদের আয়ত্তের মধ্যে নেই। ২২.৭ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা চালু করতে হলে তাদের কর্মীদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তার খরচও অনেকটা বেশি। সেই খরচে রাজি নয় সংস্থাগুলি। নতুন করে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হলে সংস্থার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হবে। এই যুক্তিতে উন্নয়নে রাজি নয় ৭.৩ শতাংশ সংস্থা।
কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই সংসদে জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশে প্রায় ৩৬ হাজার এমএসএমই ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। সমীক্ষাটি বলছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে হিসেব কষলে সেই সংখ্যা ৭৫ হাজারের বেশি। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে সমস্ত এমএসএমই-কে ‘উদ্যম’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে বলে কেন্দ্র। তারপর থেকে যারা সেখানে নথিভুক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যেই ৭৫ হাজারের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। এর কারণ কী, তা স্পষ্ট করে জানায়নি সরকার। টিকে থাকার জন্য যেটুকু প্রযুক্তিগত রদবদল দরকার, সেটুকুও না করাই সংস্থাগুলির ব্যবসা গোটানোর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।